চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইংরেজ নীলকরদের কালের সাক্ষী ভোলাহাটে নীল বৃক্ষের বাগান

প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০২২ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:ব্রিটিশ শাসনামলের নীল গাছের বাগানটি সেই বিখ্যাত রেশম সিল্কের সুতা ও পশমি কাপড় উৎপাদন সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট এলাকার। সখ স্মৃতিকে পূর্ণ অবজ্ঞায় ধরে রাখার অসুখে অতীতের সেই ধিক্কৃত নীল চাষের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে আজও ভোলাহাট। ইংরেজরা এদেশে নীল চাষ করে। কিন্তু নীলচাষ করতে গিয়ে এদেশের চাষীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করতো, ঠকাতো। এর প্রতিবাদ করে নীল চাষ করতে অনীহা প্রকাশ করলে বা নীল চাষ করতে না চাইলে চাষী ও তাঁর পরিবারের উপর অমানবিক অত্যাচার করতো নীলকর ইংরেজরা। এর ফলে ১৮৫৯ সালে বাংলার নীল চাষীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে নীলকর ইংরেজদের বিরুদ্ধে এবং বিদ্রোহ করে বাংলার চাষীরা। যা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইংরেজ নীলকররা চাষীদেরকে নীল বীজ বপন করতে বাধ্য করত। দাদনের টাকা জোর করে দিয়ে চাষীদের জোর করে নীল চাষ করাতে বাধ্য করত। নীলকর সাহেবদের কথা অমান্য করলে গুলি করে বা বর্ষা বিদ্ধ করে মেরে ফেলত। এক বছরের মাঝে দাদনের টাকা শোধ করতে না পারলে পরের বছর চাষীকে বিনা দাদনেই নীল চাষ করতে হত। নীলকররা এদেশের চাষীদের বিভিন্নভাবে ঠকাত। কেউ প্রতিবাদ করলে বা নীল চাষ করতে অস্বীকার করলে চাষী ও তার পরিবারের উপর অমানবিক নির্যাতন করত নীলকররা তাদের পছন্দমত জমিতে দাগ দিত, এমনকি ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে হলেও চাষীদের নীল চাষ করাতে বাধ্য করত। কোন চাষী চুক্তি ভঙ্গ করলে, তাকে কুঠিতে ধরে এনে আটকে রেখে নির্যাতন করত। তাদের কর্মচারীরা প্রজাদের গবাদিপশু চুরি বা ছিনিয়ে নিত। আদালতে নালিশ করেও চাষীরা সুবিচার পেত না কখনোই।