১১ দিন চলার পর বন্ধ হয়ে গেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেন

প্রকাশিত : জুন ২৪, ২০২২ , ১১:০৮ অপরাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: গত ১৩ জুন ২০২২ তৃতীয়বারের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়া সুলভ মূল্যে আম,কাঁচামাল ও পার্শ্বেলবাহী ( রেলওয়ে আইনে পার্সেল হিসেবে গণ্য) ট্রেন সার্ভিস ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মাত্র ১১দিন চলার পর আলোচিত ট্রেনটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার(২৩ জুন) শেষবারের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে ঢাকা যায় ট্রেনটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,অব্যাহত বড় ধরণের লোকসানের কারণেই ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ৫টি ৪৩ টনের মালবাহী ওয়াগনের ট্রেনটির (২১৫ টন ক্যাপাসিটি সম্পন্ন) পরিচালন ব্যয়(অপারেটিং কষ্ট) ট্রেনটির আয়ের তুলনায় অনেক বেশী হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে করোনাকালে ২০২০ সালে ট্রেনটি ৫ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চলাচল করে। পরের ২০২১ সালের আম মৌসুমে ২৭ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ট্রেনটি চলাচল করে। প্রতিবারই ভর্তুকি দিয়ে ট্রেনটি চালানো হয়। তৃণমূল চাষী, ব্যবসায়ী, বাগানি ও উদ্যোক্তাদের জন্য মূলত: ট্রেনটি চালানো হয়। কিন্তু এই উদ্যোগ ব্যবসা সফল হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে যাত্রা শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরসহ জেলার ৬টি সহ রাজশাহী হয়ে ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর ষ্টেশন পর্যন্ত ১৬টি ষ্টেশন থেকে মাল পরিবহন করত। চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে কোন ষ্টেশন থেকে ঢাকা পর্যন্ত তিনটি মৌসুমেই কেজি প্রতি ভাড়া নির্ধারণ হয় ১টাকা ৩১ পয়সা। রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি ভাড়া হয় ১ টাকা ১৮ পয়সা। এর সাথে রয়েছে রেলের নিজস্ব কুলির জন্য পৃথক খরচ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ষ্টেশন সহকারী মাষ্টার ওবাইদুল্লাহ বলেন,চলতি মৌসুমের ১১ দিনে ট্রেনটি ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ২ হাজার ২৫৭টি ক্যারেট (আমের ঝুড়ি) ও প্যাকেটে ৪৫.৬২৪ টন(৪৫ হাজার ৬২৪ কেজি) আম পরিবহন করে। এতে আয় হয় ৬১ হাজার ৪৬৯ টাকা। গত ২০২১ সালে এই ট্রেনে আম পরিবহন হয়েছিল ২৩৬.৯৭৩ টন। এর আগে গত ২০২০ সালে ট্রেন প্রথম চালুর বছরে ১৬৭.০৮২ টন আম পরিবহন করে। ট্রেনের প্রারম্ভিক রহনপুর ষ্টেশন মাষ্টার মির্জা কামরুল হক বলেন, চলতি মৌসুমে ট্রেনটি ষ্টেশন থেকে ২৯.৫৪৩ টন আম পরিবহন করে। জেলার বৃহত্তম সদর উপজেলার আমনুরা জংশন মাষ্টার হাসিবুল হাসান বলেন,ট্রেনটি এ বছর ১৮২টি ক্যারেটে ৩.৭৭৪ টন আম পরিবহন করে আয় করে ৪ হাজার ৬৫৬ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আমের রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বিপর্যয় ঘটেছে। অপরদিকে ট্রেনটি মৌসুমের অন্তত: ৩ সপ্তাহ দেরী করে চালু করা হয়েছিল। অপরদিকে রাজশাহী অঞ্চলে আমের ফলন তুলনামূলক ভাল হলেও সেখান থেকে ট্রেনের জন্য তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। টেনটির অব্যাহত সিডিউল বিপর্যয়ও কাঁচামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটি সদস্য সচিব মনিরুজ্জামাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম বলেন,আমের ট্রেন ছাড়াও করোনার কারণে ২৭ মাস আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া জেলা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ৫ জোড়া ট্রেন (জেলা থেকে ১০ জোড়া ট্রেন চলত) সহ সকল ট্রেন মালবাহী ওয়াগনসহ পুনরায় দ্রুত চালু করা হোক।