টুংটাং শব্দে মুখরিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালা

প্রকাশিত : জুলাই ৬, ২০২২ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: কোরবানি ইদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। তবে ঈদকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালাগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। কয়লা পোড়া গন্ধ, হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে ধারালো দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। আর ফাঁকে ফাঁকে চলছে পুরনো দা, বটি, ছুরি ও চাপাতিতে শান দেয়ার কাজ। তাই এবার দম ফেলার ফুরসত নেই কামারদের। কাজের চাপ বেশি থাকায় শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে কামারশালায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে দা, ছুটি, কোপতা তৈরির কাজ। জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, এক মাস আগে থেকে কামারশালায় হাতিয়ার বানানোর কাজ শুরু হয়। আর পাশে দিয়ে গেলেই শোনা যায় ঠুকঠুক আর লোহা গরম করা ভাতির শব্দ। অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদে কামারদের ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি বেচা-বিক্রিও বেশি। গড়ে প্রতিদিন তাদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। এ কারণে অনেকেই ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন হাট বাজারে দা, চাপাতি ও ছুরি বিক্রি করছেন। শহরের প্রাণ কেন্দ্র সিসিডিবি মোড় ও অক্ট্রয়মোড়, হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কামারশালা রয়েছে। হরিপুর এলাকায় একটি কামার শালায় কথা হয় সুখেন কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, সারা বছরই কমবেশি তৈরি জিনিষের চাহিদা থাকে। তবে কোরবানি ঈদে পশু কোরবানির নতুন ছুরি, চাপাতি, চাকুর চাহিদা বেশি থাকে। পাশাপাশি পুরনো ছুরি, চাপাতি, চাকু শান দেয়ার জন্য নিয়ে আসেন। ঈদ আসলেই তাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ইদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ নানান হাতিয়ার তৈরি করা শুরু হয়। সেই সাথে কামারশালার সামনে বিক্রি করার জন্য সাজানো থাকে কোরবানি করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আর বিক্রি শুরু হয় এক সপ্তাহ আগে থেকে। ক্রেতাদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে। এসময় কাজ শেষ করার ফুরসত নেই। তাই বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। আর এসময় চাহিদার বিবেচনায় আগে থেকেই বেশ কিছু লোহার তৈরি সামগ্রী বানিয়ে রাখা হয়।
এই ব্যস্ততা ইদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে। তিনি আরো জানান, গত বছর কয়লার টন ছিল ১৫ হাজার, এবার ২৫ হাজার টাকা টন। পাশাপাশি লোহার দামও বেড়েছে। এর ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি ৪০ বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত। সিসিডিবি মোড়ের একটি কামার শালার মালিক শ্রী সুনিল কর্মকার জানালেন, ঈদ আসলেই তাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কামারশালার সামনে বিক্রি করার জন্য তৈরিকৃত সাজানো কোরবানি করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। আর বিক্রি শুরু হয় এক সপ্তাহ আগে থেকে। লোহার মানের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। কামারশালায় আসা রেজাউল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, কোরবানির আগে কামারশালায় ভিড় বাড়ে। তাই আগেই লোহা কিনে নিয়ে চাহিদা অনুযায়ী দিয়ে চাপাতি ও দা বানিয়ে নিলেন।