সুবর্নচরে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে ঝুঁকছে কৃষক

প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০২২ , ৮:০৭ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ ইয়োলো ড্রাগন, ব্ল্যাক কুইন চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। এতে অসমেয় পড়ে থাকা পতিত জমি আসছে আবাদের আওতায়। সহজ চাষাবাদ, কম সময়ে, অল্প খরচে এই তরমুজ চাষ করা যায়। তরমুজ চাষে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। ফলে দিন দিন আবাদ বাড়ছে এই তরমুজের। সরেজমিন গেলে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষি উপজেলার পশ্চিম চরবাটা গ্রামের কৃষক শ্রীবাস চন্দ্র দাস জানান, তিনি অবসরে বসে না থেকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গত বছর নিজের পতিত ১০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ ইয়োলো ড্রাগন, ব্ল্যাক কুইন চাষের উদ্যোগ নেন। প্রথম বছরেই তিনি সফলতার মুখ দেখেন। ভালো ফলন ও লাভ পাওয়ায় এবার তিনি ৫০ শতক পতিত জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। শ্রীবাসের এমন সফলতা দেখে উপজেলার অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও এবার গ্রীষ্মকালীন তরমুজ ইয়োলো ড্রাগন, ব্ল্যাক কুইন চাষ শুরু করেছেন। স্বজ্জন পদ্ধতিতে কম সময়ে, অল্প খরচে এই তরমুজ চাষ করা যায় । তার উপর পতিত জমিকে আবাদের আওতায় আনতে পারায় খুশি কৃষকরা। অন্য ফসল বা সিজনাল তরমুজের চাইতে এই তরমুজের দামও বেশি। ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে চাষাবাদ আরো বাড়ানোর কথা জানায় কৃষকরা। সুবর্নচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হারুন অর রশিদ জানান, মূলত সুবর্নচর উপজেলার মাটিতে লবনের আধিক্য বেশি। তাই ফলন না হওয়ায় বেশির ভাগ জমি অনাবাদী পড়ে থাকে। এসব অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আনতে এসএসিপি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, বীজ, সারসহ আনুষঙ্গিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের যে কোন কৃষক ইয়োলো ড্রাগন ও ব্ল্যাক কুইন তরমুজ চাষ করতে চাইয়ে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হবে ও উৎপাদন বাড়লে দেশে এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালীন ইয়োলো ড্রাগন ও ব্ল্যাক কুইন তরমুজ বাংলাদেশে প্রথম চাষ হয় চুয়াডাঙ্গায়। এরপর জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও ঢাকার ধামরাই হয়ে এটি এখন নোয়াখালীতে চাষ হচ্ছে। চলতি বছর সুচর্নচরে ১০ হেক্টর জমিতে ইয়োলো ড্রাগন ও ব্ল্যাক কুইন তরমুজ চাষ হয়েছে।