বিদেশী জাতের আম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সাদ্দাম মোল্লা

প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০২২ , ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সাদ্দাম মোল্লা বিদেশী জাতের আম চাষ করে পেয়েছেন সফলতা। তার আম গাছগুলো ফুল আর কাঁচা-পাঁকা ফলে ভরে গেছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে হালকা খয়েরি, হালকা কাঁচা হলুদ, লাল হলুদ ও সবুজ রঙের আমগুলো। এ জাতের আমের চাহিদা রয়েছে দেশের বাজারে। তরুণ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এ আম চাষ বাণিজ্যিক ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ২০১৫ সালে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সাদ্দাম মোল্লা পরীক্ষামূলক ভাবে থাইল্যান্ডের বানানা ও কিউজাই জাতের চারা দিয়ে আম বাগান শুরু করেন। তিনি ১ বিঘা জমিতে ৫০টি এ জাতের চারা রোপণ করেন। এরপর ২০১৯ সালে আরও ২৮টি প্রজাতির ৬শ আম গাছের চারা রোপণ করেন ৬ বিঘা জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছগুলো বড় হতে থাকে। আম বাগান মালিক সাদ্দাম মোল্লা জানান, বাগানে মিয়াজাকি, কিউজাই, কিংচাকাপাত, ডকমাই, চিয়াংমাই, পালমার, থাই বানানা, ব্রুনাই কিং, ব্লকস্টোন, আলফান দোসহ ৩০ প্রজাতির আম গাছ রয়েছে। গাছ লাগানোর ১৮ মাস পর (মাঘ মাসে) মুকুল আসতে শুরু করে। এর দুই মাস পর পরিপূর্ণ আমে রূপ নেয়। কাঁচা অবস্থায় আমগুলো পোকা-মাকড় ও রোগ বালাই থেকে রক্ষা করতে ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ মাসে আম পাঁকতে শুরু করে। আকার ভেদে প্রতিটি আমের ওজন ২শ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, বিদেশী জাতের আম মিষ্টি, সুস্বাদু ও রসালো। আমের আটি পাতলা। জাত ভেদে কাঁচা-পাঁকায় আমের উপরের ও ভিতরের রঙ আলাদা। দেশী না হওয়ায় সতর্কতার সাথে পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। বিদেশী জাতের আম চাষ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২শ টাকা কেজি দরে বানানা ও কিউজাই আম বিক্রি হচ্ছে বাজারে। দুর-দুরন্ত থেকে নতুন জাতের আম দেখতে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, কৃষক সাদ্দাম বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা লাগিয়েছেন। তার প্রতিটি গাছে আমের শোভা পাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে বাগান পরিদর্শন করেছি। তার বাগানে বিদেশী ৩০ জাতের ৬৫০টি আম গাছ রয়েছে। এই আম চাষ যাতে আরো ছড়ানো যায় সেই উদ্যোগ কৃষি সম্প্রসারণ নেবে।