বিরামপুরের তারেক দেশ সেরা মাছ চাষি

প্রকাশিত : জুলাই ২৫, ২০২২ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

মোঃ জাহিনুর ইসলাম, বিরামপুর প্রতিনিধি, দিনাজপুর, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার তাজ এগ্রো ফার্মের মালিক আবু সালেহ মো. তারেক দেশের শ্রেষ্ঠ মাছ চাষের প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন । উত্তম মাছ চাষ পদ্ধতি অনুশীলন করে মাছের উন্নতমানের পোনা উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ পুরস্কার পান তিনি। রবিবার (২৪ জুলাই) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে মাছের গুণগত-মানের পোনা উৎপাদনে দেশের শ্রেষ্ঠ মাছ চাষির প্রথম পুরস্কার লাভ করেন আবু সালেহ মো. তারেক। পুরস্কার হিসেবে তাকে স্বর্ণ পদক ও নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
বিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.কাওসার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবু সালেহ মো.তারেক বিরামপুর পৌর শহরের ইসলাম পাড়া এলাকার অধ্যক্ষ এ কে এম শাহাজানের ছেলে। বিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২ হাজার ২০০ পুকুর রয়েছে। আর চাষি রয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জন। এছাড়াও ৭০০ চাষির পুকুর রয়েছে ১ একের অধিক। তাদের মধ্যে আবু সালেহ মো. তারেক প্রথম। জানা গেছে, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ছোটবড় মোট ১৪টি পুকুর নিয়ে ৬৭ বিঘার তাজ এগ্রোফাম নামের একটি মৎস্য প্রজেক্ট গড়ে তোলেন আবু সালেহ মো.তারেক। তাজ এগ্রো-ফার্মে দেশীয় প্রজাতির উন্নত-জাতের পোনা উৎপাদন এবং বিনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি এবং আধুনিক মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনা। এ বিষয়ে আবু সালেহ মো. তাকের বলেন, গত বছর ৪ হেক্টর জলায়তন বিশিষ্ট ৯টি পুকুরে রুই, শিং, পাবদা ও গুলশা মাছের মোট ৪৬ লাখ পোনা উৎপাদন করা হয়। এই খাতে বছরে ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এতে তার বছরে আয় হয়েছে ৮৩ লাখ টাকা। তার খামারে ১২ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং ৬ জন দক্ষ জনবল। তাদের মধ্যে দুইজন নারী কর্মীও রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাজ এগ্রোফার্মে উন্নত জাতের পোনা উৎপাদনের তালিকায় রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, কালবাউস, সিলভার, শিং মাগুর, পাবদা, টেংরাসহ দেশিয় নানা প্রজাতির মাছ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.কাওসার হোসেন বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে বিরামপুর উপজেলা থেকে একজন পোনা উৎপাদনকারী মৎস্য চাষির নাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠানোর পর কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ সেরা নির্বাচন করেন। এই অর্জনের জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই।’ তিনি আরও জানান, তাজ এগ্রোর গুড একুয়াকালচার পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির গুণগত পোনা নিয়ে প্রান্তিক মৎস্য খামারিরা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছে। দিনাজপুর জেলার উন্নত পোনার যে চাহিদা তা এখন থেকে এই ফার্ম সরবরাহ করতে পারবে। এতে উপজেলা মৎস্য অফিস তার পাশে রয়েছেন।