সুবর্নচরে কন্দাল ফসল ওলকচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশিত : আগস্ট ৩, ২০২২ , ৪:২১ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালীর সুবর্নচরে প্রথম বারের মতো চাষাবাদ করা হচ্ছে কন্দাল ফসল ওলকচু। এতে অনাবাদী পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আসছে আর স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় লাভেরও আশা করছে কৃষক। ভালো ফলস উৎপাদনে কৃষককে সার্বিক সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। সরেজমিন সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, নদ-নদী ও খালবিল বেষ্টিত উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার অধিকাংশ আবাদি জমিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও জমিগুলো অংশ বিশেষ আলো-ছায়ায় ঘেরা হওয়ায় সবজি ও দানাদার ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়না। এতে বছরের বেশির ভাগ সময় জমিগুলো অনাবাদী পড়ে থাকে। কৃষকরা ভালো ফসল উৎপাদন করতে না পারায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি বিবেচনা করে উপজেলা কৃষি বিভাগ পানি, মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ গ্রামের কৃষক সিরাজ উদ্দিনসহ একাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কন্দাল ফসল ওলকচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। প্রথম বারেই কম খরচে স্বল্প সময়ে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। এতে লাভের আশা করছে কৃষকরা। পতিত জমিতে এমন ফলন দেখে আগ্রহী হচ্ছে অন্য এলাকার কৃষকরাও। কৃষক সিরাজ উদ্দিন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এবার প্রথম বার আমার জমিতে ওলকচুর চাষ করেছি। আমার খবর হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে। বাজারেও চাহিদা রয়েছে। আশা করি ভালো লাভ হবে। ওই এলাকার আরেক কৃষক হানিফ জানান, সিরাজ ওলকচুর চাষ করেছে এবার। তিনি যদি ভালো লাভ পান, আগামী বছর আমারও এই সফল করার ইচ্ছা আছে। সুচর্নচর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হারুন অর রশিদ জানান, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবার সুবর্নচরে এক একর জমিতে কন্দাল ফসল ওলকচুর আবাদ করা হয়েছে। এই সফল চাষের মাধ্যমে অনাবাদী পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আসছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় এই ফসলের চাষ আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার যে কোন অঞ্চলের কৃষক এই ফসল চাষ করতে চাইলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান উপজেলা কৃষি অফিসার হারুন লর রশিদ।