৩১৩ কিলোমিটার হেঁটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে যাচ্ছেন মোস্ত পাগল

প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০২২ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা সদর থেকে ৩১৩ কিলোমিটার হেঁটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু প্রেমিক ‘মোস্ত পাগল’।
সোমবার (০৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাড়ি থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন মোস্তফা মিয়া ওরফে ‘মোস্ত পাগল’। দুপুর ১২টায় ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন চত্বরে এলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার খবর শোনার পর থেকে কখনো জুতা পড়েননি মোস্তফা মিয়া ওরফে ‘মোস্ত পাগল’। এমনকি ৭১ বছর বয়সী মোস্তফা মিয়া বিয়ের দিনেও খালি পায়ে বর সেজে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজও জুতা পরেন না তিনি। এবার বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে ৩১৩ কিলোমিটার (ফুলপুর থেকে টুঙ্গিপাড়া) হেঁটে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু প্রেমিক মোস্তফা মিয়া ওরফে ‘মোস্ত পাগল’ ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে তিনি। এলাকার সবাই তাকে ‘মোস্ত পাগল’ বা ‘বঙ্গবন্ধুর পাগল’ নামেই চেনে। সোমবার সকাল ১১টায় নিজ বাড়ি থেকে সবুজ রঙের পাঞ্জাবি, মাথায় সাদা টুপি ও সাদা দাড়ি ও বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দুপুর ১২টায় ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন চত্বরে এলে বঙ্গবন্ধু প্রেমিক মোস্তফা মিয়া ওরফে ‘মোস্ত পাগল’কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার, পৌর মেয়র শশধর সেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার ববি, ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান কামু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া পারভীন লাকী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতি এমন ভালোবাসা বিরল। অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্য পাগল থাকলেও তিনি তাঁর হৃদয়ে ধারণ করছেন। তরুণ প্রজন্ম তাঁর কাছে অনেক কিছু শিখতে পারবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করা হবে।’ বঙ্গবন্ধু প্রেমিক মোস্তফা মিয়া ওরফে ‘মোস্ত পাগল’ সাহেবের কাছে ‘এই বয়সে হেঁটে টুঙ্গিপাড়া যেতে সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে অশ্রুভেজা চোখে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন যাবৎ এটি স্বপ্ন ছিল। গরিব মানুষ আমি। আমার তিন ছেলে। বড় দুই ছেলে মাস্টার্স ও ছোট ছেলে কলেজে পড়ছে। ছেলেরা বড় হয়েছে, আমি মরে গেলেও কোনো আপত্তি নেই। আমার ইচ্ছা, জীবনের শেষ বয়সে বঙ্গবন্ধুর কবরটা জিয়ারত করে দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলে তার জন্য দোয়া করব।’ তাঁর সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও ও পৌর মেয়রের প্রত্যয়ন-পত্র রয়েছে বলে জানান তিনি।’