বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেলেন কালীগঞ্জের এক গ্রামের তিন কৃষক 

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৪, ২০২২ , ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বাণিজ্যিকভাবে কৃষি খামার গড়ে তোলা ও কৃষি কাজে বিশেষ সাফল্যের জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেতে সক্ষম হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের তিনজন কৃষক কৃষাণী । বাংলাদেশে এই প্রথম এক গ্রামের তিনজন পদক পেয়ে এলাকার গৌরব অর্জন করেছেন। এ ছাড়া এ গ্রামের নারী পুরুষ জৈব কৃষি কাজ করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করায় বেশ কয়েকজন জাতীয় ও স্থানীয় পুরস্কার পেয়েছেন। গ্রামের ১০০ নারী ও পুরুষ বাড়ির কাজের পাশাপাশি জৈব সার অর্গানিক সবজি এবং ফসল উৎপাদন করেছেন। ইতোমধ্যে এই গ্রাম কে কৃষি অফিসের পক্ষ-থেকে আদর্শ কৃষি গ্রাম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গ্রামটি হল কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরচাদা। কৃষিতে অবদান রাখায় গত ১২ অক্টোবর ২০২২ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেয়েছেন মকবুল হোসেন নামের এক কৃষক। এর আগে এই গ্রাম থেকে কৃষিতে পদক পেয়েছিলেন মর্জিনা বেগম ও হেলাল উদ্দিন। পাশের গ্রামের মনোয়ারা বেগম কৃষিতে অবদান রাখায় তিনি ও জাতীয় পদক পেয়েছিলেন। তাদের কাজ জৈব কৃষি মাটি ও মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা। তাদের সব সময় চিন্তা ভাবনা করেন কেচোও কম্পোজ এবং কেঁচো উৎপাদন, নিরাপদ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করা। যা থেকে তারা প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এ ছাড়া জৈব-কৃষি নিয়ে কাজ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন মর্জিনা,হেলাল ও মকবুল হোসেন। পরিবর্তন হয়েছে তাদের সংসারের স্বচ্ছতা। এলাকায় সাড়ে ৪০০ কৃষক কৃষাণিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন কেঁচো কম্পোজ সার উৎপাদন করতে। পাশের অনেক গ্রামের নারী ও পুরুষদের অর্থ উপার্জনের পথ দেখিয়েছেন। একসময়ে তারা প্রতিদিন এক বেলা খেয়ে দিন কাটাতেন কিন্তু এখন তারা গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন। এসব করেছেন জৈবসার,কেঁচো ও জৈব-কৃষি সার বিক্রি করে। ২০০৭/২০০৮ সালের দিকে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বলারামপুর গ্রামের মর্জিনা বেগম, সামছুল, মাজেদা,মহেশ্বরচাদা গ্রামের হেলাল উদ্দিন, মকবুল হোসেন, মস্তবাপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম সুখজান বেগম, রেবেকা বেগম, মল্লিকপুর গ্রামের আসাদুল, জুথি জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ, কেঁচো কম্পোজ সার ও কেঁচো উৎপাদন আয়-বর্ধন মূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জাপান ও আমেরিকাসহ বিদেশি কয়েকজন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর তারা নিজের বাড়তে জৈববালাই নাশক, কেচোসার ও কেঁচো উৎপাদন তৈরি শুরু করেন। মর্জিনা বেগম জানান হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা নিয়ে এই কাজ শুরু করেন। এরপর নিজেই বড় একজন কৃষি উদ্যোক্তা হন। অনেক নারীদের কেঁচো কম্পোজ সার ও কেঁচো উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যার স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক। মনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি এলাকায় নারীদের নিরাপদ উপায়ে সবজি উৎপাদন,কেঁচো সার ও কেঁচো উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের তৈরিতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। জাতীয় কৃষি-পদক প্রাপ্ত মকবুল হোসেন বলেন, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ড থেকে কেঁচো কম্পোজ সার উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। সেই কাজ করতে সরকার জাতীয় স্বীকৃতি দিয়েছেন। হেলাল উদ্দিন বলেন মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করছেন বলে তিনি অনেক খুশি। প্রোগ্রাম অফিসার শাহাজান আলী জানান, নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের নারী পুরুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেচোসার, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ২০০৬/২০০৭ সালের দিকে। তখন ঐ এলাকায় ২০/২৫ জন কাজ শুরু করছিলেন। কিন্তু এখন তারা সফর উদ্যোগতা। নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ রনি বলেন, তার ইউনিয়ন বাংলাদের সেরা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের সাড়ে ৪০০ নারী পুরুষ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ, কেচোসার ও কেঁচো উৎপাদন করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহায়মেন আক্তার বলেন, একই গ্রামের তিনজন কৃষি পদক পেয়ে শুধু নিজ-গ্রামকেই ধন্য করেননি। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা তথা ঝিনাইদহ জেলাকে গৌরবান্বিত করেছেন। এই অর্জন শুধু তাদের একার নয়, সমগ্র কৃষি বিভাগের। এটা বাংলাদেশের মধ্যে একটা অহংকার ও গর্বের বিষয় বাংলাদেশে এই প্রথম একগ্রামে তিনজন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেয়েছেন।