রাতের আঁধারে পাহাড় কাটছে একটি চক্র

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৪, ২০২৩ , ৩:৫১ অপরাহ্ণ

মো: মাইনউদ্দিন, নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: খাগড়াছড়িতে পরিবেশ আইন অমান্য করেই চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাহাড় খেকোরা। অবাধে চলছে পাহাড় কাটা। রাতের আঁধারে পাহাড় কাটছে একটি চক্র। প্রশাসন কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। শুষ্ক মৌসুম এলেই খাগড়াছড়িতে শুরু হয় পাহাড় কাটার মহোৎসব। এ কারণে প্রতি বর্ষায় শুরু হয় পাহাড় ধস। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলা সদরের সবুজবাগ এলাকা একটি চক্রের ইন্ধনে প্রকাশ্যে বিশালাকার পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আমিনা বেগম, জাহাঙ্গীর, জাহানারা ও মোজাম্মেলসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবার। বর্ষা মৌসুমে ফের পাহাড় ধসে প্রাণহানির পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় স্থানীয়রা। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পরও পাহাড়-খেকোরা তাণ্ডব চালাচ্ছে খাগড়াছড়ি শহরের সবুজবাগ, রসুলপুর, কুমিল্লা-টিলা, শাল-বাগান, গামারীঢালা, এলাকায়। তাছাড়া দীঘিনালার মেরুং, রামগড়ের পাতাছড়া কালাবাড়ীতে বিশাল পাহাড় কেটে পোল্ট্রি ফার্মের কার্যক্রম শুরু করতে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা। জেলা সদরের প্রতিটি উপজেলায় একই চিত্র প্রতীয়মান হচ্ছে, ফলে আবারো প্রাণহানির শঙ্কায় স্থানীয়রা। প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ তারা। কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। বিনা বাঁধায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতে চলে পাহাড় কাটা। সারা রাত ধরে চলে মাটি পরিবহন। পাহাড় কাটার এ ধারাহিকতা রোধ করা না গেলে, অচিরেই খাগড়াছড়িতেও রাঙ্গামাটির পরিণতির আশংকা করছেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুনের রাতে টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টি আর বজ্রপাতে রাঙ্গামাটিতে ঘটে যায় স্মরণকালের পাহাড় ধসের ঘটনা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দিনটি ফিরে এলে রাঙ্গামাটি-বাসীর মনে দেখা দেয় আতঙ্কের সেই ভয়াল স্মৃতি। পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছিলেন নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১২০জন। এর মধ্যে শহরের মানিকছড়িতে একটি সেনা ক্যাম্পের নিচে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের উপর ধসে পড়া মাটি অপসারণ করতে গিয়ে পুনরায় পাহাড় ধসের মাটি চাপা পড়ে নিহত হন ওই ক্যাম্পের দুই কর্মকর্তাসহ ৫সেনা সদস্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন অ-পরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনিক-ভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে পাহাড় কাটা চলছে। অবিলম্বে তাদের অপ-তৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতায় উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরাও। এ অশুভ প্রতিযোগিতা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান তারা। তবে প্রশাসন বলছে, পাহাড় কাটা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বন্ধ হোক পাহাড় ধস। থামুক মৃত্যুর মিছিল। এমন প্রত্যাশা খাগড়াছড়ি-বাসীর। এব্যাপারে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) জেসমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।