নিখোঁজ নোয়াখালীর মাইন উদ্দিনের সন্ধান চায় পরিবার

প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০২২ , ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগার ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে লাইভ করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ কাভার্ড ভ্যানের চালক মাইন উদ্দিনের সন্ধান চায় পরিবার ও এলাকাবাসী। দীর্ঘ ১০ দিনেও তার সন্ধান না পেয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাইন উদ্দিনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, সিরাজপুর গ্রামের হেমায়েত উদ্দিনের বড় ছেলে মাইন উদ্দিন। দীর্ঘ দিন ধরে বাবার সাথে কাভার্ড ভ্যানে চালানো শিখে গত দুই মাস আসে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে আবু তাহের মন্ডলের মালিকানাধীন একটি কাভার্ড ভ্যানে ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেয়। গত ৩ জুন শুক্রবার ঢাকা থেকে গার্মেন্টস মালামাল নিয়ে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আসে এবং মালামাল আনলোড করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। হঠাৎ ডিপোর ভিতর থেকে আগুন লাগলে সে আগুন লাগার খবর গ্রামের বাড়ীতে মা বাবা বোনদের ফোন দিয়ে জানায় এবং সে ভয়াবহ আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইল ফোলে লাইভ করে। এসময় পরিবারের স্বজনরা তাকে আগুনের কাছ থেকে সরে যেতে বলে। কিছুক্ষণ লাইভ করার পর হঠাৎ তার মোবাইল বিকট আওয়াজে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে আর তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। মাইন উদ্দিনের বাবা হেমায়েত উদ্দিন জানান, তিনি নিজেও কাভার্ড চালক। বড় ছেলেকে তিনি তার সাথে রেখে ট্রাক -কাভার্ড হেলপার থেকে চালক হিসেবে গড়ে তোলেন। গত দুই মাস আগে তাকে বড় গাড়ী চালানোর কাগজপত্র তৈরি করে দেন। এর পর সে আবু তাহের মন্ডল নামের এক মালিকের একটি কাভার্ড ভ্যানে ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেয়। আগুন লাগার আসে সে ঢাকা থেকে গার্মেন্টসের মাল নিয়ে চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডের ডিপোতে যায়। যখন রাত আগুন লাগে তখন তাকে ফোন দিয়েছিল। তিনি তাকে আগুনের কাছ থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরে আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যায়। মাইনের মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। সে যে কাভার্ড ভ্যানসহ মাল নিয়ে গেছে ডিপোতে সেই গাড়িটি জ্বলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিন্তু মাইনকে পাওয়া যাচ্ছে না। যে যেখানে যেতে বলেছে সেখানে গেছি। পরে আমি সহ আমার পরিবারের আরে দুই জন সদস্য ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছি। ছেলে কি জীবিত আছে না মরে গেছে তার কোন সন্ধান পাচ্ছি না। সন্তানের খোঁজে চট্রগ্রামে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোটাছুটি করছি। এদিকে ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলে মাইন উদ্দিনের কোন খোঁজ এখনো পাওয়া যাইনি। কোন সান্ত্বনা মাইন উদ্দিনের পরিবারের কান্না থামাতে পারছে না। পরিবারের স্বজনদের দাবি সবার আদরের মাইন উদ্দিনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। এদিকে অল্প বয়সে বাবার সাথে সংসারের হাল ধরার জন্য প্রথমে কাভার্ড ভ্যানের হেলপার ও পরে ড্রাইভার হিসেবে গাড়ী চালানো দক্ষতা অর্জন করে মাইন। তার স্বপ্ন ছিলো একমাত্র বোনকে বিয়ে দিয়ে তার পর নিজে বিয়ে করবে। কিন্তু তার অকালে চলে যাওয়াটি পরিবারের স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও মনে নিতে পারছেনা। তাই তারা মানববন্ধন করে সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন তার সন্ধানের পাশাপাশি এ বিস্ফোরণের সাথে দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া। স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন ও সমাজকর্মী আরিফুর রহমান জানান, মাইন উদ্দিন সংসারে সবার বড়। তাই আয়ের উপর সংসারটি অনেকাংশে নির্ভর করে। বাবার বয়স হয়ে গেছে। তাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলো মাইন। তার অবর্তমানে এই সংসার চালানো তার পিতার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই সরকার এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াক। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, যদি ওই ছেলের পরিবার অসহায় হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। তিনি জেলা প্রশাসনকে সঠিক সব তথ্য দেয়ার আহবান জানান।