গৃহশ্রমিকদের অধিকার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থনের দাবি

প্রকাশিত : জুন ১৬, ২০২২ , ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:গৃহশ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনের দাবি জানিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। আন্তর্জাতিক গৃহশ্রমিক দিবস ২০২২ উদ্যাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন), বিলস্ সেমিনার হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। বিলস্ সুনীতি প্রকল্প এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।বিলস্ যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান এর সভাপতিত্বে এবং গৃহশ্রমিক অধিকার ও প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিলস্ সুনীতি প্রকল্পের অগ্রগতি কার্যক্রম তুলে ধরেন বিলস্ উপ-পরিচালক মোঃ ইউসুফ আল মামুন।জনশুমারীতে গৃহশ্রমিকের তথ্য নেয়া হচ্ছে এবং এর ফলে ডিজিটাল ডাটা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে আলোচনা সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে শ্রমিকদের জন্য যে তহবিল রয়েছে সেখান থেকে গৃহশ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আলপনা সরকার বলেন, গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে নিয়োগকারীদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ব্যাপারে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। মিডিয়াতে এ ব্যাপারে প্রচারণা জোরদার করা উচিত। বিশ্বের ৩০ টি দেশ আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থন করেছে উল্লেখ করে হংকং থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের এশিয়া কোঅর্ডিনেটর আইপি ফিশ বলেন, বাংলাদেশও এই কনভেনশন অনুসমর্থনে এগিয়ে আসবে বলে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ আশা করে। আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর এনি দ্রং বলেন, আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনে সরকারের সদিচ্ছা আছে। কিন্তু তার কিছু পূর্বপ্রস্তুতিও রয়েছে। সরকার সে ব্যাপারে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা যায়। জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, গৃহশ্রমিকরা যতদিন না শ্রম আইনে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন ততদিন পর্যন্ত তাদের সুরক্ষায় নীতিমালায় যে সমস্ত নির্দেশনা উল্লেখ আছে সেগুলো প্রয়োগে সরকারকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে বিলস্ যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, গৃহশ্রমিকদেরকে করুন অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে ট্রেড ইউনিয়নকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে মাঠে নামতে হবে। গৃহশ্রমিক নীতিমালকে আইনে পরিনত করতে হলে সর্বাত্বক আন্দোলন করতে হবে। গৃহশ্রমিক অধিকার ও প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যে কিনা গৃহশ্রমিকদের জন্য নীতিমালা করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নাই। আশা করি সরকার এতে মনোযোগ দেবে। বিলস্ ২০১২ সাল থেকে গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক গৃহশ্রমিক দিবস পালন করে আসছে উল্লেখ করে স্বাগত বক্তব্যে বিল্স পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন বলেন, গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভূক্তি, গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতি বাস্তবায়নসহ আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থনের দাবি তুলে ধরেন। এছাড়াও করোনকালীন সময়েও বিল্স সনীতি প্রকল্পের উদ্যোগে গৃহশ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নে গবেষণা, লবি, এডভোকেসি, প্রচারণার কর্মসূচী চলমান ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহকর্মে নিযুক্ত শ্রমিকের উপর নির্যাতন, হত্যা ও মানবাধিকার লংঘনের মতো প্রভৃতি ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে গেছে। ‘গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ সর্বোপরি তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নির্যাতন-সহিংসতা বন্ধ এবং ন্যায্য মজুরি, ক্ষতিপূরণ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’কে আইনে পরিনত করার দাবি জানান তারা। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ হোসাইন, সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া বিলস্ সহযোগী জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সুনীতি প্রকল্পের সহযোগী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহশ্রমিক ও নিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।