সহসাই চালু হচ্ছে না ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর

প্রকাশিত : জুন ২১, ২০২২ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: “অবশেষে চালু হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর” এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সারা জেলা-জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের জোয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে আসতে থাকে অভিনন্দন। তবে খবরটি নিতান্তই গুজব বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন এবং জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান। ৪২ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরটি ১৯৪০ সালে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ—পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও—পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মাদারগঞ্জ এলাকায় ৫৫০ একর জমির উপর নির্মিত করে ব্রিটিশ সরকার । স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এর যোগাযোগ ছিলো। কিন্তু ১৯৮০—৮১ সালে লোকসানের কারনে এ বিমান বন্দরটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে মেরামতসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। টাকা খরচ হয় ঠিকই, কিন্তু বিমানবন্দর আর চালু হয়নি। পরবর্তীতে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করে ১ বছরের মধ্যে তা চালু করার আশ্বাস দেন। তিনিই আবার পরের বছর ২০১৭ সালর ১১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বলেন, বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব নয়। বর্তমান বিমানবন্দরের রানওয়েটি স্থানীয় গ্রামবাসী যে যার মতো করে ব্যবহার করে আসছে। সারা বছরই বিমানবন্দরের রানওয়ে ব্যবহার হচ্ছে ধান, গম ও ভুট্টা সহ গৃহস্থালি পণ্য সামগ্রী শুখানোর জন্য। কেউ কেউ আবার ভুট্টা মাড়াইয়ের মেশিন পর্যন্ত বসিয়ে নিয়েছেন এখানে। ঈদ, পূজা সহ বছরের বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলোতে শিশু ও তরুণ-তরুণীরা রানওয়েটি বিনোদনের জায়গা হিসেবও বেছে নিতে শুরু করেছেন। এ বিষয় ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন “বিমানবন্দর সম্পর্কে আমি একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। আমার এ ব্যাপারে কারিগরি জ্ঞান নেই। আদৌ এটা চালু করা সম্ভব কি না তা তারাই বলতে পারবেন। তবে সহসাই এটা চালু হচ্ছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন “সবার আগ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণ অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইপিজেড ও ফুড প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এই উন্নয়নগুলি ধারাবাহিকভাবে হবে। তারপর মেডিক্যাল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। বিমানবন্দর শীঘ্রই চালু হবে এমন ধারণা ঠিক নয়”।
এতে সহজেই অনুমান করে নেয়া যায় দু’চার বছরের মধ্যে বিমান বন্দর চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতায় বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে এ সম্ভাবনা। এদিকে ঠাকুরগাঁও-বাসীর দাবি এবং সম্ভাবনার দিকটি বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন এমনটিই আশা করছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ।