পঞ্চগড়ে চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব

প্রকাশিত : জুলাই ৫, ২০২২ , ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব। আর এতে শিশু, কিশোর থেকে বৃদ্ধা আক্রান্ত হচ্ছে সবাই। তবে সব থেকে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও কিশোররা। এতে করে আতংক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষদের মাঝে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চেয়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ সব থেকে বেশী দেখা মিলছে গ্রাম-গঞ্জে। জানা গেছে চিকেন পক্সে আক্রান্তের পর গ্রামের অধিকাংশ সাধারণ পরিবার গ্রাম্য কবিরাজ বা আদি চিকিৎসায় ঝুঁকছেন। অন্যদিকে কবিরাজি বা গ্রাম্য আদি চিকিৎসা গ্রহণ না করে আক্রান্তের সাথে সাথে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। দীর্ঘ দুইবছরের অধিক সময় ধরে করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে ঘড় বন্দি মানুষ যখন কর্ম ক্ষেত্রে বের হয়েছেন ঠিক এই সময়ে পঞ্চগড়ে হঠাৎ করে চিকেন পক্সে স্থানীয়রা আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে আক্রান্ত শিশু কিশোরদের শরীরে দেশী নিমের পাতা ও কাচা হলুদ বেটে সমস্ত শরীরে মেখে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছে। কেউ আবার নিম পাতা গরম জলে গোসল করছে। অনেকেই আবার ডাবের পানি আক্রান্ত স্থানে মেখে, কেউ পানি পান করছে। জানা গেছে, চিকেন পক্সের প্রাদুর্ভাব গ্রাম অঞ্চলে সব থেকে বেশী দেখা মিলছে। অনেকের কাছে আদি নিয়মটি সঠিক মনে হওয়ায় চিকেন পক্সে আক্রান্ত গ্রামের অধিকাংশ সাধারণ পরিবার গ্রাম্য আদি চিকিৎসায় ও কবিরাজের কাছে ঝুঁকছেন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার আব্বাস আলী বলেন, আদিকালের নিয়ম পক্স হলে ডাবের পানি পান করা, শরীরের ক্ষত স্থানে নিমের পাতা বেটে লাগানো। আবার আমরা কবিরাজেরও চিকিৎসা মাঝে মধ্যে নিচ্ছি। তবে অনেকের একটু বেশী সময় লাগায় তারা আতঙ্কে থাকেন। ভেলুপাড়া গ্রামের তাহের ইসলাম বলেন, এখন আধুনিক সময়ে এ রোগের নাকি ওষুধ বের হয়েছে শুনছি। ডাবের পানি পান করা ও নিমের পাতা শরীরে লাগানোর পাশাপাশি আমরা এখন ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। আব্দুল হাই নামে আরেকজন জানান, আমাদের গ্রামে পক্স সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে আমাদের মত সাধারণ মানুষ এতে আতঙ্কে রয়েছে। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন বর্তমান সময়ে ঝাঁর ফুক ও কবিরাজি চিকিৎসার যেমন ভিত্তি নেই, তেমনি চিকেন পক্স নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে সু- চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতাল মুখি হওয়ার আহবান জানান তারা। এর মধ্যে যারা হাসপাতালে সু- চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকেই এখন রয়েছেন সংখ্যা-মুক্ত। এছাড়া অনেক পরিবার আদি ও কবিরাজি চিকিৎসার পাশাপাশি গ্রামের পল্লি চিকিৎসক দের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ভজনপুর উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাঃ মোঃ আবুল বাসার বলেন, চিকেন পক্স একটি ছোঁয়াচে রোগ। তবে এটি ছোঁয়াচে হলেও করোনা বা অন্যান্য রোগের মত ভয়ানক নয়। একটু বিশ্রাম ও ডাক্তারের দেয়া ওষুধ সময় মত খেলেই সেরে যায়। এটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে আমরা দেখেছি গ্রাম-অঞ্চলে এ রোগটির প্রকোপ একটু বেশী। রোগীরা আমাদের কাছে আসলে আমরা এই রোগের ওষুধসহ পরামর্শ দিচ্ছি। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাক্তার রফিকুল হাসান বলেন, চিকেন পক্স আমাদের একটি পুরনো রোগ। এটি শরীরের এক অংশে হলে ছোঁয়াচে হওয়ায় অন্য-খানে ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। এটি একটা সময় আমাদের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাতেই ভালো হয়ে যায়। তবে বিশেষ কোন ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে এই রোগটি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত হলে আদি চিকিৎসা, ঝাড়-ফুক বা কবিরাজের কাছে যাওয়া না গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। উল্লেখ্য, চিকেন পক্সের প্রকোপ জেলা শহরসহ তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে অনেকেই জন সম্মুখে আসেনা। আক্রান্তরা কেউ কাউকে জানতে দেয় না। যত পারে গোপনে বা নীরবে চিকিৎসা করাচ্ছেন। কথিত আছে পঞ্চগড়ে চিকেন পক্সকে বসন্ত বলে চিনে। আর এই বসন্তকে মহামারি ছোঁয়াচে হিসেবে আখ্যায়িত করায়। আক্রান্তের বাড়িতে কাউকে আসা যাওয়া করতে দেয়া হতোনা। তবে কিছু কিছু এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হলে তাদের এক ঘড়ে করে রাখার প্রচলন চলমান রয়েছে।