বেগমগঞ্জ সোনাপুর সড়ক উন্নয়ন কাজে ধীরগতি

প্রকাশিত : জুলাই ৯, ২০২২ , ৭:২৮ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের চলমান ফোরলেন প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ- সোনাপুর অংশে উন্নয়ন কাজ চলছে ধীরগতি চলায় কোরবানের ঈদে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই মহা সড়কের বেগমগঞ্জের চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন কাজের জন্য খোঁড়া জায়গা নালা-নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাওয় জমেছে হাঁটু পানি। যাতায়াতের পথ না থাকায় ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে সড়কের পাশে অবস্থিত হাট বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। দিন দিন দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিন সড়কের বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা যায়, অনেকটা এলোমেলো আর দায়সারা ভাবেই চলছে উক্ত ফোরলেন প্রকল্পের কাজ। বিগত ৫ বছর থেকে কচ্ছপ গতিতে চলা এই উন্নয়ন কাজ কিছুতেই শেষ করতে পারছেনা দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী চৌরাস্তা-সোনাপুর সড়ক চার লেনে উন্নতকরণ কাজের প্রকল্প পাস হয়। কাজ পায় ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড ও ইনফ্রাটেক নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছলি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে কাজ শেষ করতে না পারায় আরো দুই বছর বাড়ানো হয়। ৫ বছর ধরে চলা কাজ এখনো শেষ করতে না পারলেও ৬০ শতাংশ বিল তুলে নিয়েছে তারা। সড়কটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিগত ৬ মাস-১ বছর আগে মাটি খোঁড়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনেও উক্ত স্থানগুলোতে উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে না পারায় খননকৃত অংশ বর্তমানে নালায় পরিণত হয়েছে। পানি জমে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কর্দমাক্ত জায়গা মশা-মাছির প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সব স্থান দিয়ে যানবাহন চলাতো দুরের কথা সাধারণ মানুষ পায়ে হেটেও চলাচল করতে পারেনা। তাছাড়া যাতায়াতের পথ না থাকায় সড়কের দুই পাশে থাকা হাট বাজারের দোকান পাট ক্রেতা শূন্য থাকে প্রায় সময়। লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিকদের। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত এই ফোরলেন সড়কটির উন্নয়ন কাজ সমাপ্তের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সড়কের এ দুরবস্থার জন্য অবস্থার জন্য সড়ক বিভাগের গাফিলতি, নজরদারির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনাই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।বেগমগঞ্জের চৌরাস্তার ব্যবসায়ী বশির উল্যাসহ একাধিক ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসের যাত্রী জানান, সড়ক উন্নয়নের কাজটি সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা চরম বিপাকে রয়েছি। সড়কটি উন্নয়নের জন্য প্রায় সময় খোঁড়াখুঁড়ি চলে। খোঁড়া গর্তে পানি জমে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এখানে থেকে চড়ায় দুর্গন্ধ। সামান্য বৃষ্টি হলে কাদা জমে সড়ক যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত উন্নয়ন কাজটি শেষ করে।
সড়কের দু’পাশ থেকে বিদ্যুতের খুঁটি ও গ্যাসের লাইন স্থানান্তর না করা এবং অধিগ্রহণ-কৃত জায়গা থেকে স্থাপনা না সরানোয় কাজের ব্যাঘাত ঘটছে বলে দাবি করেছে সড়কের কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড ও ইনফ্রাটেক কর্তৃপক্ষ। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির প্রোজেক্ট ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ জানান, নানা জটিলতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করতে। এ বিষয়ে কথা বলতে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড.আহাদ উল্যাহর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন জানান, প্রকল্প ২০১৮ সালে শুরু হলেও অধিগ্রহণ কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের নভেম্বরে। আমরা এই ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য অংশে কাজ শেষ করেছি। কাজ চলমান রয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি আমরা।