আর্সেনিকে আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেতবাড়িয়া গ্রামবাসী

প্রকাশিত : জুলাই ১৮, ২০২২ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দারা আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছে। নিজেদের স্থাপিত সাবমার্সিবল পাম্পের পানিতে আর্সেনিক দেখা দিয়েছে। সেই পানি ব্যবহার করা গ্রামের বেশ কিছু মানুষের হাতে ও পায়ে গুটিসহ সারা শরীরে কালো তিল দাগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শরীরে কালো কালো দাগ, হাতে পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এরই মধ্যে ৪০ জন আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে। অপর দিকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ শনিবার পর্যন্ত ৩৫ জন আর্সেনিক আক্রান্তের তথ্য জানিয়েছে। বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আলেপনূর, আকলিমা, আঁখি, নজরুল, মাসুদ, সাইদুল, আশরাফুলসহ আরো অনেকে রবিবার জানান, বেশ কিছুদিন থেকে তাদের হাতে-পায়ে কালো কালো দাগ হচ্ছে। আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকটা নিরুপায় হয়ে জেনেশুনেই আর্সেনিকের মতো বিষপান করতে হচ্ছে বলে তারা জানায়।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আনোয়ারা খাতুন জানান, তিনি বেতবাড়িয়া গ্রামে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের বর্তমানে একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে আর্সেনিকমুক্ত পানি পান ও ব্যবহার। সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জন পলাশ হাঁসদা জানান, সদর উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের বেশকিছু মানুষের মধ্যে আর্সেনিকের নমুনা ব্যাপকভাবে পাওয়া গেছে। আমরা সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রতিবছর ২৬টি জলমটর দিয়ে থাকি, যাতে মানুষরা বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে। টিউবওয়েল বা মটরের পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ০.০৫ মি.গ্রাম পার লিটার। এর বেশি হলে পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সোমবার আর্সেনিকের মাত্রা নির্ণয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এসব মানুষের অবস্থা দেখার জন্য রবিবার সকালে বেতবাড়িয়া গ্রামে আক্রান্ত রোগীদের সাথে দেখা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জন পলাশ হাঁসদা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি জানান, আমরা বেতবাড়িয়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষের আর্সেনিক আক্রান্তের খবর শুনে নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের চিকিৎসকগণকে জানায়। সেই সাথে যারা আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছে তাদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের তালিকা করার নির্দেশ প্রদান করি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতবাড়িয়া এলাকায় দুটি বিশুদ্ধ পানি ফিল্টারসহ স্থাপনের জন্য বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। তিনি আরো জানান, শুধু মটর দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডের পানি ব্যবহার না করে মহানন্দা ও পদ্মা নদীর পানি নিয়ে বিশুদ্ধ করে জনগণের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এতে একদিকে যেমন আন্ডারগ্রাউন্ডের পানির ব্যবহার কমবে, তেমনি মানুষ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে নদীর বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে পারবে। সোমবার থেকে বোরিং কাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।