বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংলাপ

প্রকাশিত : জুলাই ৩০, ২০২২ , ৭:২০ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বরেন্দ্র অঞ্চলের খাল, বিল-পুকুরে পানি থাকে না বছরের বেশিরভাগ সময়। তারপরও একের পর এক পুকুর খনন চলছে। হচ্ছে মাছ চাষও। আর মাছ চাষের জন্য পুকুরে পানি ভরা হচ্ছে পাতাল থেকে তুলেই। এ কারণে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। এ থেকে রেহাই পেতে যে কোনো মূল্যে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। নদীর পানি ব্যবহারে আরো সচেতন হতে হবে। বরেন্দ্র এলাকায় নদীর পানি সরবরাহ করে সেচের জন্য আরো প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
রাজশাহীতে ‘নীতি সংলাপ: বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সংলাপে প্রান্তিক মানুষেরা এই সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। শনিবার বিকালে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন মিলনায়তনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ‘পরিবর্তন’, অ্যাকশন-এইড, প্রাণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি)। সংলাপে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার তিলাহারি গ্রামের কৃষক মো. সাইফুদ্দিন বলেন, দিনের পর দিন খরা চলছে। বৃষ্টির দেখা নাই। কোন জায়গায় পানিও নাই। চৈত্র মাসে গভীর নলকূপেও পানি ওঠে না। একটা হাহাকার চলছে পানির অভাবে। কিন্তু পুকুরে ঠিকই পানি আছে। এই পানি বৃষ্টির পানি না। ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলেই পুকুরে দেওয়া হচ্ছে। তা দিয়ে মাছ চাষ হচ্ছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি নিচে নামা আরও তরান্বিত হচ্ছে। মোহনপুরের কেশরহাটের চাষি আবদুল হান্নান বলেন, আগে পুকুরের পানিতে অন্তত ঘর-গৃহস্থালির কাজ করা যেত। গোসল হতো। সেই পানি খাওয়াও যেত। কিন্তু এখন সব পুকুরে মাছ চাষ। পানিতে দেওয়া হচ্ছে গোবর ও রাসায়নিক সার। এই পানি ব্যবহারের সুযোগ নেই। এতই খারাপ পানি যে তা গবাদিপশুও খায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলে যখন পানির জন্য হাহাকার তখন সরকারি পুকুরগুলোও পাওয়া যায় না ব্যবহারের জন্য। এসব পুকুর প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কব্জায়। তারা ইচ্ছেমত ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে মাছ চাষ করছে। সংলাপে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন পানি বিশেষজ্ঞ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য চৌধুরী সরওয়ার জাহান সজল। তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর খাসপুকুর। কিন্তু সেগুলো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সুযোগ নেই। দলীয় নেতারা উঠেপড়ে লাগেন ইজারা নেওয়ার জন্য। উপজেলা প্রশাসন ইজারা দেয়। এটাও একটা সংকট। এলাকার প্রভাবশালী মহল পুকুরগুলো ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছে। এই এখন পাট জাগ দেওয়ার জন্য কৃষক পানি পাচ্ছে না। ওই পুকুরগুলো থাকলে কৃষকের কাজে লাগত। সংলাপে বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা ও পানি নিয়ে সংকটের নানা দিক উঠে আসে। সংলাপ সঞ্চালনা করেন পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ রিপন। আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান দিল সেতারা চুনি ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের জেলার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়। এছাড়াও বক্তব্য দেন- কলেজ শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কস্তান্দিনা হাঁসদা প্রমুখ।