বঙ্গবন্ধুর দেয়া চেক থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি আবদুল হাই পাটোয়ারীর

প্রকাশিত : আগস্ট ৯, ২০২২ , ৭:১০ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া চেক থাকার পরও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫২ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পাক বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত আবদুল হাই পাটোয়ারীর। এতে তার পরিবারের সদস্যরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কের ফেনাঘাটা ওয়াপদার পোল এলাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয় মুক্তি বাহিনীর। এই যুদ্ধে ২ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ৮-১০ জন পাক সেনা নিহত হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতে গিয়ে আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জয়নারায়নপুর গ্রামের আবদুল হাই পাটোয়ারী নিহত হন। এ সময় আবদুল হাই পাটোয়ারী ও তার ভাইদের বাড়ি ঘরও জ্বালিয়ে দেয় পাক বাহিনী। ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ১ হাজার টাকার একটি চেক দেয়া হয় আবদুল হাই পাটোয়ারীর স্ত্রীর নামে। এর পর দীর্ঘ ৫২ বছর কেটে গেলেও নিহত আবদুল হাই পাটোয়ারী শহিদ হিসেবে আজো স্বীকৃতি মেলেনি। স্থানীয় এমপির ডিও লেটারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনেক আবেদন নিবেদন করার পরও কোন কাজ হচ্ছেনা। স্বীকৃতি না পাওয়ায় নিহত আবদুল হাই পাটোয়ারীর পরিবারের সদস্যরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবদুল হাই পাটোয়ারীকে দ্রুত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবী জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত আবদুল হাই পাটোয়ারীর পুত্র শাহ আলম জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক জায়গায় গিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, জামুকা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেছি। অনেক ঘুরাঘুরি করেছি। অনেকের কাছে ধর্না দিয়েছি, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আবদুল হাই পাটোয়ারীকে স্বীকৃতি দিতে একই দাবী জানান এলাকার অনেকেই। বেগমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙ্গালী জানান, সরকারী ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের তালিকা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রক্রিয়াটি শুরু হলে আবদুল হাই পাটোয়ারীসহ এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার সবাই স্বীকৃতির আওতায় আসবেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম নাজু ও ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন মাসুদ জানান, ফেনাঘাটা যুদ্ধে নিহত হওয়ায় আবদুল হাই পাটোয়ারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সদস্যদের সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। আমরাও চাই মুক্তিযুদ্ধে সহযোগীতাকারীদের যেন যথাযথ স্বীকৃতি দেয়া হয়।