সাফল্য ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক

প্রকাশিত : আগস্ট ১৪, ২০২২ , ৭:০২ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সাফল্য ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদ আহমেদ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য একটি নন্দিত জেলার নাম ঝিনাইদহ। ডাঃ জাহিদ আহমেদ এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিরামহীন কর্মের কারণে আজ ঝিনাইদহ জেলা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের রোল মডেল। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, জেলার সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনসহ জেলা জুড়ে ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদ আহমেদ এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের প্রশংসা করছেন। মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মৃত্যুহারেও ছাড়িয়ে গেছে অন্য জেলা থেকে। নীরবে নিভৃতে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়ে ঝিনাইদহ জেলাকে উচ্চতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদ আহমেদ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ঝিনাইদহ জেলায় দম্পতি প্রতি গড় সন্তান সংখ্যা ১.৬৬, যা খুলনা বিভাগের মধ্যে এগিয়ে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, খুলনা বিভাগে দম্পতি প্রতি গড় সন্তান সংখ্যা ১.৯ আর দেশে ২.০৪। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই নিন্ম হারের কারণে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত হন ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদ আহমেদ। তিনিই বদলে দিয়েছেন জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অফিসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে মাঠ-কর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। তার ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। ঝিনাইদহ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খুলনা বিভাগের মধ্যে টানা পাঁচ বার প্রথম হয়েছে, যা দেশে নজিরবিহীন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডাঃ জাহিদ আহমেদ ঝিনাইদহ জেলা-পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে ঢেলে সাজিয়েছেন। বন্ধ ক্লিনিকগুলো সচল রাখতে তার অবদান স্মরণযোগ্য। সারা বাংলাদেশে ১৫৯টি দশ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল যেখানে বেশির ভাগ বন্ধ সেখানে ঝিনাইদহের বিভিন্ন ক্লিনিকগুলো স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় জনবল নিয়োগ করে সচল রেখেছেন। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছেন। জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ফসলি, চাঁদপুর ও শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নে নির্মিত হাসপাতালগুলোর গুনগত মান নিশ্চিত করণে কোন আপোষ করেনি। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি মানবিক এক অফিসার। ২০১৪ সালের সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ‘‘রত্নগর্ভা মা’’ খ্যাতি অর্জনকারী মিসেস মাহমুদা বেগম ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ নাসির উদ্দিন আহমেদের ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে ডাঃ জাহিদ আহমেদ সবার ছোট। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরনপুর ইউনিয়নের ভগবাননগর গ্রামে তাঁর পৈতৃক নিবাস। দুই ভাই ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ও চার ভাইবোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। ডাঃ জাহিদ আহমেদ ঐতিহ্যবাহী ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের মেধাবী ছাত্র এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে ভর্তি হন। ডাঃ জাহিদ আহমেদ মানবিক অফিসার হিসেবে নিজের চাকরীর মধ্যে কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। তিনি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ উন্নয়ন ছাড়াও তিনি গরীব অসহায় হত দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করে যাচ্ছেন। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তার অর্থে লেখাপড়া করছেন। উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদ আহমেদ বলেন, স্টাফদের সহায়তায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে তিনি শৃঙ্খলার মধ্যে দাড় করিয়েছেন। কাজ করতে গিয়ে যদি কোন ব্যর্থতা থাকে তা আমার, আর সফলতা ঝিনাইদহের মানুষের। তিনি বলেন, আমি নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। উল্লেখ্য: ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের কৃষি জমি বাঁচাতে এক বেতার ভাষণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জোরালো নিদের্শনা প্রদান করেন। এ নির্দেশনার পর ১৯৭৬ সাল থেকে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগ শুরু হয়।১৯৮৯ সাল থেকে প্রত্যেক দম্পতির জীবন বৃত্তান্ত লিখিতভাবে লিপিবদ্ধের জন্য রেজিস্টার কার্যক্রম শুরু করা হয়।