মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত : আগস্ট ১৬, ২০২২ , ৫:৫২ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঝিনাইদহের সদর উপজেলার ১৫নং কালিচরণপুর ইউনিয়নের উত্তর কাষ্টসাগরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রীস আলীর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, মিথ্যা মানববন্ধন, অপপ্রচার ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশসহ দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার
(১৬ আগস্ট) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইদ্রীস আলী ও তার পরিবার।এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রঞ্জনা খাতুন,শিখা খাতুন,বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন,রেজাউল ইসলাম,আলাউদ্দিন,ইয়াদুর হোসেন ও রাশিদা খাতুন, ফিরুজ শাহ, রেজিনা খাতুন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইদ্রীস আলী বলেন, আমার মুল বাড়ি হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের জন্মসূত্রে নাগরিক। ১৯৮৯ সাল থেকে আমরা ১৫ নং কালিচরণপুর ইউনিয়নে উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামে বসবাস করছি। সেখানে আমি ও আমার স্ত্রী তিন কন্যাসহ বসবাস করি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন সমর্থন করায় ও সম্প্রতি জায়গা জমি নিয়ে আমার শ্যালকদের সাথে একই গ্রামের পাঞ্জু শাহ, ইউনুস ও সুরত আলীর সাথে বিরোধ চলে আসছে। জমিজমা সংক্রান্তে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং-বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ (২) আদালত দেওয়ানী আপিল-৮৪/২০। মামলা চলমান। এরিই জের ধরে আমাদের প্রতিপক্ষ তোয়াজ উদ্দিন এর পুত্র মনিরুল প্রায় আমার বড় কন্যা (ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী)। মনিরুল উদ্দেশ্য মূলক ভাবে আমার মেয়ে রঞ্জনাকে উত্ত্যক্ত ও আপত্তিজনক প্রস্তাব দিয়ে আমার মেয়ে ও আমাদেরকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত-ভাবে হয়রানি করে সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই তুহিন ও মনিরুলের হুকুমে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে আমার পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা করে। আমার শ্যালিকা শিখা খাতুন ও তার পুত্র মোঃ নয়ন কে জখম করে। এ সময় আমার কন্যা (রঞ্জনা খাতুন) এর প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে গেলে মনিরুল, রানা আমার কন্যা রঞ্জনার জামা কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় ও এলোপাথাড়ি মারপিট করে। আমার প্রতিবন্ধী স্ত্রী রাশিদা খাতুনকে মারপিট করে। আমার শ্যালকের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর তলপেটে লাথি ও ঘুষি মারে মনিরুল, ওবায়দুল ও আসাদ। তিনি ২৩/০৭/২২ ইং হইতে ৩০/০৭/২২ তারিখ পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি এখনো শঙ্কা মুক্ত নন। আমি প্রতিরোধ করতে গেলে আমাকেও মারপিট করে। আমার শ্যালিকা ও তার পুত্র মোঃ নয়ন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ২৫/০৭/২২ ইং তারিখে ঝিনাইদহ কোর্টে মামলা দায়ের করে আমার শ্যালক মোঃ সাবান শাহ। বিজ্ঞ আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহে মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ২২৫/২২। আমার কন্যা রঞ্জনা খাতুন গত ২৯/০৭/২২ ইং তারিখে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ৫৮/৩২৫। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে খুনের হুমকি ধমকি দেয় এবং ১লা আগস্ট আসামীরা জামিন নেয় এবং জামিন নিয়ে আমার কন্যা রঞ্জনা খাতুন ও আমার শ্যালক সাবান শাহ কে হত্যার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।আমার কন্যা রঞ্জনা খাতুন গত ০২/০৮/২২ তারিখে ঝিনাইদহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের কওে এবং গত ০১/০৮/২২ তারিখে ঝিনাইদহ কোর্টে একটি ৭ ধারা মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং এ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনসহ পিবিআইতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গত ১২/০৮/২০২২তারিখে উত্তর কাষ্টসাগরা বাজারে একটি কথিত মানব বন্ধন নামে আদিবাসীদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে ব্যানার, প্লেগার্ড, ফেস্টুন প্রদর্শন করে। আদৌও তারা কোন আদিবাসী নয়, তারা হিন্দু সম্প্রদায়। ঝিনাইদহের কিছু প্রিন্ট মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অশ্লীল বক্তব্য সম্প্রচার করে। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও নামধারী মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির সমর্থন ও ভূমি-দস্যু বলে মিথ্যা এবং মানহানি কর বিভিন্ন কথা বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। যা গোটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের শামিল। এ ঘটনার বিষয়ে ১৩/০৮/২২ তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করি।। তাছাড়া আমার দুই কন্যা ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি কে.সি. কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া মেয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর পতিতাবিত্তি পেশার সাথে তুলনা কওে এবং আমার শ্যালক একজন সাবেক সেনা সদস্য। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চাকুরী হতে অবসর নেওয়ায় তাহার বিরুদ্ধে মোঃ রানা তাকে নেশাগ্রস্ত ও রাখাল বলে আখ্যায়িত করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করে। কথিত মানব বন্ধনের মুল হোতা ১৫ নং কালিচরণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর মিজানুর রহমান মিজু মেম্বর।যাহার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উত্তর কাষ্টসাগরা বাজারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নং ঝিনাইদহ সদর থানায় ফৌজদারি মামলার স্মারক নং-৩৫৭৬, ঝি.জি.আর মামলা নং-১৭৭/২২ ,এফআইআর নং ১০.১৭৭, জিআর মামলা নং-১৭৭/২২,এফআইআর নং- ৩.১১৪, জিআর নং-১১৪/২০। রঞ্জনার মামলা ১নং আসামী তুহিন মন্ডল এর মা ২০০৪ সালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে ব্যভিচারীর জন্য চুল কেটে গ্রামের লোকজন গ্রাম ছাড়া করেছিল। আসামীরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আমাদের কে প্রকাশ্যে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করিলে আসামীগণ আমাকে বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করিবে মর্মে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। আমার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা, অধ্যয়নরত মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা কামনা করছি।আসামীদের ভয়ে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন জীবনের নিরাপত্তা-হীনতায় ভুগছি। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।আমি এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা, মিথ্যা মানববন্ধন, অপপ্রচার ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশসহ দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদানের নিরুপায় হয়ে পড়েছি এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।