ছয় মাসেও সন্ধান মেলেনি ঝিনাইদহে নিখোঁজ শিশু তোয়ার

প্রকাশিত : আগস্ট ৩০, ২০২২ , ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সমাজসেবা অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত ঝিনাইদহের সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) মধুপুর থেকে নিখোঁজের ছয় মাসেও সন্ধান মেলেনি তোয়া নামের (১০) বছরের এক শিশু কন্যার।
নিখোঁজ তোয়া ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানার কানাইপুর গ্রামের জয়নুদ্দিনের মেয়ে। তবে এ ঠিকানাতে তোয়ার কোন অস্তিত্ব নাই এমনটি জানিয়ে ছিলেন উপ-তত্বাবধায়ক রুমানা ইয়াসমীন। অথচ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা উপ-তত্বাবধায়ক মোছা. রুমানা ইয়াসমিন গত ৩০ মার্চ ঝিনাইদহ সদর থানায় ১৮৩৫ নং হারানো জিডি করেছিলেন। গত মার্চ মাসে মধুপুর সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) থেকে শিশু তোয়া হারিয়ে যায়। তবে নিখোঁজের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শিশু তোয়ার খোঁজ। এ নিয়ে মধুপুর সরকারি শিশু পরিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মধুপুর শিশু পরিবার থেকে হারিয়ে যাওয়া তোয়া টানা ৬ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কোন সন্ধান মেলেনি মেয়েটির। মেয়েটি বেঁচে আছে কি না মারা গেছে নাকি বিক্রি হয়ে গেছে কিছুই জানা যায় নি । মধুপুর শিশু পরিবার কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্ব হীনতা উদাসীনতা গাফলতির প্রমাণ খুঁজে পাওয়ার পরেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন কিছুই মনেই করছেন না। গণমাধ্যম কর্মীরা এবিষয়ে খোঁজ খবর তথ্য নিতে গেলে জেলা সমাজ সেবা অফিসাররা খুবই কষ্ট অনুভব করছে। এক কথায় তাঁরা বিষয়টি কে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবার এডি আব্দুল্লাহ আল সামী বলেন, এটা দায়িত্বে অবহেলা নয়, তোয়া তো পালিয়ে গেছে। তবে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবার ডিডি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, সরকারি শিশু পরিবার এটি কোন জেল খানা নয়, দায়িত্বে অবহেলা বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। থানা পুলিশের জিডির উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, আমরা শিশুটির খোজ পাইনি। ‘অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি তদন্ত করছি।’ তবে তদন্ত চলমান আছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত ঝিনাইদহরে পোড়াহাটি ইউনিয়নের মধুপুরে অবস্থিত এই শিশু পরিবারে ৬৬টি শিশু বসবাস করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে থেকে শিশু তোয়া হারিয়ে গেল অথচ দায়িত্ব-রতরা দায়ভার নিতে নারাজ। কর্তব্যরত ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তর খতিয়ে দেখবেন এবং শিশু তোয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এমনটি প্রত্যাশা করেন সচেতন-মহল।