শৈলকূপায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তারুণ্যের কণ্ঠ অংশগ্রহণ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১, ২০২২ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বাংলাদেশের ৫০টিরও অধিক জেলা ও প্রায় ১২০টির মতো উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশ বেতার। বস্তুত এ প্রয়াসের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের যে যুদ্ধ আমাদের; তাতে অংশগ্রহণ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন তৈরির প্রয়াসে চলা এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি যুক্ত হয়েছেন; অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার শৈলকূপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বেতারের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান তারুণ্যের কণ্ঠ অনুষ্ঠিত হয়। শৈলকূপা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)মোঃ বনি আমিন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাসান মুসা। এছাড়াও শিক্ষক ও ২৫০জন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সবাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানামুখী কার্যক্রমের কথা জানান। প্রধান অতিথি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি ভয়ানক সামাজিক সমস্যা। এটি প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সবাই মিলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করতে হবে।বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক সজীব দত্ত জানান অনুষ্ঠান টি গত ৭ বছর ধরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আই.ই.এম ইউনিটের আর্থিক সহযোগিতায় জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল বাংলাদেশ বেতার সারাদেশে আয়োজন করে চলেছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ০৮ টা ১০ মিনিটে উপপরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলামের তত্বাবধানে, সহকারী পরিচালক তোফাজ্জল হোসেনের প্রযোজনায় বাংলাদেশ বেতার ঢাকা ক ও এফ এম ১০৬ মেগাহার্টজ এ তারুণ্যের কণ্ঠ প্রচারিত হবে। উল্লেখ্য: অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহই হলো বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে। দেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন রয়েছে। ১৯২৯ সালে প্রণীত এই আইনের নাম ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’। এই আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ বছর ও ছেলেদের ১৮ বছর। ১৯৮৪ সালে এই আইনে পরিবর্তন এনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয় মেয়েদের জন্য ১৮ বছর ও ছেলেদের জন্য ২১ বছর। ২০১৭ সালে প্রণীত বর্তমান আইনে বয়সের সীমা এক রেখে, শাস্তির সময়কাল ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই বছর এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন আইনে শাস্তির আওতায় কারা আসবে-তার পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা বিয়ে পরিচালনা করেন এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন, বর্তমান আইনে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক বর, কনে বা তাদের পরিবার নয়; সংশ্লিষ্ট সবাই আইন ভঙের শাস্তি পাবে। নতুন আইনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এ ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণকারী সনদগুলো ‘নির্দিষ্ট’ করা হয়েছে।২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে-বলেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।