ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধনে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ , ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

বিধান দাস, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ভানোর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ইন্ধনে ওই ইউনিয়নের মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহম্মেদ হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তায় দুই ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্যজীবী লীগ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শাখার আয়োজনে এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাজাহারুল ইসলাম সুজন, মৎস্যজীবী লীগের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি আনিসুজ্জামান রুবেল, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ভূপেন চন্দ্র, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ভানোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম মামুন, মৃতের ভাই ও ইউনিয়ন যুবলীগের সা: সম্পাদক সাঈদসহ মৎস্যজীবী লীগের নেতা কর্মী ও মৃতের আত্নীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে শাকিলকে পিটিয়ে মেরেছে। অথচ আজ পর্যন্ত প্রশাসন একজন আসামীকেও ধরতে পারেনি। অনতিবিলম্বে বক্তারা প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে বড় ধরণের কর্মসূচি হাতে নিবেন বলে হুশিয়ারি দেন তারা। উল্লেখ্য, মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত মৎস্যজীবী লীগ নেতা সাকিল আহম্মেদ (২৫) ৫ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। সাকিল আহম্মেদ ভানোর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী গ্রামের মৃত সামশুল আলমের ছেলে।এ ঘটনায় শনিবার রাতেই ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেছেন ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৃতের ভাই সাঈদ আলম। মামলার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকল আসামিরা পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার ও বাদী সাঈদ আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) হলদিবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অসম্মান করে কথা বললে প্রতিবাদ জানায় সাঈদ আলম ও মুসল্লিরা। এ সময় মসজিদের ইমামের লোকজন ও যুবলীগ নেতা সাঈদ আলমের লোকজনের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে ওই দিন রাতেই ৪ জনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেন তিনি।মামলার খবর জানতে পারলে ইউপি চেয়ারম্যানসহ তাঁর লোকজন ও মামলার অন্যান্য আসামিরা গত শনিবার সকালে সাঈদ আলমের পথরোধ করে তাকে মারপিট শুরু করে। এরপরে তাকে বাঁচাতে তাঁর ছোট ভাই সাকিল আহম্মেদসহ পরিবারের লোকজন ছুটে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা সাকিল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সাঈদ আলম আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে আমাদের দুই ভাইকে হত্যা করতে চেয়েছিল। একজনকে হত্যা করতে সে সফল হয়েছে। জনপ্রতিনিধির আড়ালে একজন খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ সকল আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।