মৌলভীবাজারে চাকরিজীবী দম্পতির বুদ্ধিমত্তায় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেল বাক প্রতিবন্ধী নারী

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ , ৭:০০ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে কর্মরত গোলাম কিবরিয়া এবং তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ জিআর কোর্টে কর্মরত আকলিমা আক্তার দম্পতির বুদ্ধিমত্তায় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেল বাক প্রতিবন্ধী নারী ছালেমা। সূত্রে জানা গেছে, ছালেমা বেগম গোয়ালাবাজার এলাকার ওসমানী-নগর থানার বাসিন্দা। তিনি একজন বাক প্রতিবন্ধী। কথা বলতে পারেন না। গত ১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার বেড়াতে এসে নিখোঁজ হন। তারপর ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। মৌলভীবাজার শহরে বাড়ীর মালিক রাজন এবং প্রতিবন্ধী নারী ছালেমা বেগম এর মেয়ে স্থানীয়ভাবে মাইকিং ও মৌলভীবাজার সদর থানায় জিডি করেন। কোথাও কোন সন্ধান না পেয়ে তার পরিবার হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এলোমেলো চলাফেরা করা অবস্থায় শ্রীমঙ্গল এলাকা হতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ প্রতিবন্ধী ছালেমা বেগমকে গ্রেফতার করে কোর্টের মাধ্যমে মৌলভীবাজার কারাগারে প্রেরণ করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে অফিসের কাজে কর্মরত গোলাম কিবরিয়া তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ জিআরও কোর্টে কর্মরত আকলিমা আক্তার বাসায় টিভি দেখছিলেন এমন সময় আকলিমা আক্তার টিভি চ্যানেলে ছবি সম্বলিত নিখোঁজ সংবাদ দেখতে পান। তিনি তার স্বামী গোলাম কিবরিয়াকে জানান যে, এই ভিকটিম নারীকে গত ৩ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করতে তিনি দেখেছেন। তখন গোলাম কিবরিয়া সাথে সাথে বলেন, এই ভিকটিম নারী কারাগারে আসছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গত ৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ দলের মাধ্যমে সেইফ-হোম বাগবাড়ী, সিলেট প্রেরণ করা হয়েছে। কিবরিয়া তখন টিভি চ্যানেলে দেয়া নিখোঁজ সংবাদের নাম্বারে কল দিয়ে বাড়ীর মালিক রাজন মিয়াকে বিস্তারিত বলেন। মুহূর্তেই স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলেন ছালেমা বেগমের পরিবারের সদস্যরা। সর্বশেষ আজ ১৪ সেপ্টেম্বর গোলাম কিবরিয়া এর সহায়তায় তার দেখানো পথে আইনি-ভাবে আদালতের মাধ্যমে সেইফ-হোম এর বন্দিদশা হতে মুক্তি পান ভিকটিম ছালেমা বেগম। ছালেমা বেগম এর বন্দিদশা থেকে মুক্তি ও তাকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তার পরিবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কারাগারে কর্মরত গোলাম কিবরিয়া জানান- মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে কাজটি করেছি। এ কাজটি করার ক্ষেত্রে প্রথমেই তিনি তার স্ত্রী মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে (বাংলাদেশ পুলিশ জিআরও কোর্টে) কর্মরত আকলিমা আক্তারকে ধন্যবাদ জানান। এ প্রসঙ্গে বাড়ীর মালিক রাজন বলেন, সরকারি ইউনিফর্মের চাকুরীতে গোলাম কিবরিয়া এর মতো ব্যক্তি খুব কম পাওয়া যায়। তিনি বিনা স্বার্থে যে কাজটি করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার।