হালুয়াঘাট সীমান্তে বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ ব্যুরো, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আওয়াজ করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা-কালে উল্টো বন্য হাতির আক্রমণে নওশের আলী (৬৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক নওশে আলী উপজেলার কড়ইতলী গ্রামের বাসিন্দা। হালুয়াঘাটের ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সুরুজ মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় বন্য হাতি এসে প্রায়ই মানুষের ফসল ও ঘরবাড়ি নষ্ট করে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কোচপাড়া এলাকায় বন্য হাতির দল এসে ধান নষ্ট করতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন ধরিয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে, পটকা ফাটিয়ে আওয়াজ করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। এসময় হঠাৎ বন্য হাতির দল মানুষদের তাড়া করলে সবাই দৌড়ে চলে আসলেও নওশের আলী আসতে পারেননি। পরে তিনি হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হন। অন্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, হাতির আক্রমণে কৃষকের প্রাণহানি ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। হাতির আক্রমণ থেকে ফসলি জমি রক্ষা করা না গেলে এই এলাকার কৃষক অনাহারে থাকবে। আমি বার বার বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় তুলে ধরেছি। কিন্তু প্রশাসন ও বনবিভাগ কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমি আশা করবো প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে বনবিভাগের গোপালপুর শাখার বিট কর্মকর্তা মোঃ মাহজারুল হক বলেন, কয়েক দিন ধরে ৩০-৪০টি বন্য হাতির একটি দল খাবারের সন্ধানে কড়ইতলী পাহাড় ও আমতৈলী পাহাড়ে গহিন জঙ্গলে অবস্থান করছে। এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিনুজ্জামান খান বলেন, ‘শুক্রবার সকালে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষক নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবার থানায় এসেছেন। তারা বিনা ময়নাতদন্তের মরদেহ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সোহেল রানা বলেন, কড়ইতলী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে আসা হাতির আক্রমণে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ওই এলাকায় বেড়া দেওয়া বা হাতি যেন নামতে না পারে, সে বিষয়টি আমার হাতে নেই। তবে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।