শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : রাস্তা ও মসজিদের ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২ , ৬:০৬ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শ্রীমঙ্গলে মতিগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় গ্রামের একটি মসজিদ ও রাস্তা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে জনসাধারণ এর চলাচলের রাস্তা। হুমকির মুখে বাড়ী-ঘর। সম্প্রতি একাধিকবার গণমাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদটি প্রকাশিত হলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমির অভিযানে উপজেলার অলিপুর গ্রামের অমর আলীর পুত্র হান্নান মিয়া, মায়া মিয়ার পুত্র হায়দর মিয়া ও সুমন মিয়াগংদের একাধিকবার অর্থদণ্ড প্রদান করেন। কিন্তু কোনভাবেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছেনা। এসব অর্থলোভীরা জরিমানা দিয়েই পুনরায় আবারো শুরু করে বালু উত্তোলন। বিশেষ করে এ চক্রটি বালু উত্তোলন এর জন্য রাতের আধারে অথবা সরকারী বন্ধের দিন টার্গেট করে। অসংখ্য শ্রমিক কাজে লাগিয়ে নদীর একাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ট্রাক ভর্তি করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। সর্বত্র প্রশাসন ও আইনকে অমান্য করছে। কিছুদিন পর পর ফের অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এসব অর্থলোভীদের খুঁটির জোর কোথায় জানতে চান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন এসব কি বন্ধ হবেনা । স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, জরিমানা ওদের জন্য কিছুই না। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে টাকা কামাই করছে। দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে নদী। বাড়ছে নদী ভাঙ্গনের দৃশ্য। গৃহহীন হয়ে পড়ছে নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি রাস্তা ও ব্রিজ। প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেনা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা। বালু ব্যবসার একটি রাজ্য গড়ে তুলেছেন। এরা কাউকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ লোক তো দুরের কথা প্রশাসনও অনেক সময় এদের বাধা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। অনেক ঘর-বাড়ী ভেঙেছে। তবুও এর কোন প্রতিকার নেই। দিনে পুলিশ অথবা প্রশাসনের লোকজন আসলে পালিয়ে যায় এরপরে পুনরায় বালু উত্তোলন করে। কোনও ভাবেই থামছে না এ নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। বিষয়টি বার বার প্রশাসনকে অবহিত করার পরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং বালু দস্যুরা বেপরোয়া-ভাবে তাদের বালু উত্তোলনের কাজ চালিয়ে আসছে। বালু খেকোরা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আমারা প্রতিনিয়ত এ অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি। এর আগেও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ জরিমানা করা হয়েছে। তবে এটা বন্ধ করতে হলে জনগণকে আরও সচেতন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।