জনতার মেয়র কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল

প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০২২ , ১১:০৯ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: প্রাচীন কালের ঝিনুকদাহ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের তোরণ হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ। মরমী কবি পাগলা কানাই, গনিত বিশারদ কেপিবসু, বিপ্লবী বাঘা যতীন এবং কবি গোলাম মোস্তফা এর স্মৃতি ধন্য ঝিনাইদহ। ১১-০৩- ১৯৫৮ সালে স্থাপিত ঝিনাইদহের প্রাণ কেন্দ্রে ২০টি মৌজার ৩২.৪২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ৯টি ওয়ার্ড সমন্বয়ে গ-শ্রেণীর ঝিনাইদহ পৌরসভা গঠিত হয়।ঝিনাইদহ পৌরসভা ১৯৮১ সালে খ-শ্রেণী এবং ১৯৯১ সালে ক-শ্রেণীতে উন্নীত হয়। ঝিনাইদহ শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এক কালের স্রোতস্বিনী নদী নবগঙ্গা। কালের স্বাক্ষী হিসাবে যা এখনো ঝিনাইদহ এর ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। ১৯৫৮ সালে টাউন কমিটির চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে রূপান্তরিত ঝিনাইদহ পৌরসভার সুপারস্টার জনতার মেয়র নির্বাচিত হন কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল। ঝিনাইদহ পৌরবাসীর স্বপ্নের ঠিকানা “জনতার মেয়র” খ্যাত কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল।
জাহেদী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ভাষাসৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া’র কৃতি সন্তান এবং ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ট দানবীর জাহেদী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজ সংস্কারক মোঃ নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল’র ছোট্র ভ্রাতা যিনি স্বাধীনতা পরবর্তী ঝিনাইদহ পৌরসভায় দলনিরপেক্ষ “জনতার মেয়র” খ্যাত কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল নির্বাচিত হয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন। পৌরসভা মিলনাতায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক মোঃ ইয়ারুল ইসলাম নতুন মেয়রকে দায়িত্বভার বুঝে দেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর সীমানা জটিলতা মামলা কাটিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর। নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ১১ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র হিসেবে তার কার্যকাল শেষ করেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ১৯৫৮ সালের ২৪ এপ্রিল স্বাধীনতা উত্তর ঝিনাইদহ টাউন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ সমর্থিত ডাঃ কে আহম্মেদ। তিনি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের পহেলা জুন মুসলীমলীগ সমর্থিত এস এম মতলুবুর রহমান টাউন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৬৫ সালের ৩ আগষ্ট থেকে ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দলের আসাদুজ্জামান খান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেন।স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৪ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নুরুন্নবী সিদ্দিকীকে পরাজিত করে পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ্যাডভোকেট আমির হোসেন মালিতা। ১৯৭৭ সালে আইএলডি দলের প্রার্থী নুরুন্নবী ছামদানী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পৌর চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এমপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে জাসদ নেতা হিসেবে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোশাররফ হোসেন মশা। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। একাধারে তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পৌরসভা শাসন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৩ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী এস এম আনিছুর রহমান খোকা। ১৯৯৯ সালে আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাপা প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মশা। তার মৃত্যুজনিত কারণে উপ-নির্বাচনে ২০০২ সালে বিএনপি প্রার্থী আ.ক.ম মশিউর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালেক ২০১১ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতিহাসের দীর্ঘযাত্রায় ঝিনাইদহ প্রশাসন ও সেবা ব্যবস্থায় যুগে যুগে এসেছে নানা পরিবর্তন -বিবর্তন। আধুনিক ঝিনাইদহের সেবা সংস্থা টাউন কমিটির চেয়ারম্যান থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান, এরপর ঝিনাইদহ পৌরসভার যাত্রা শুরু। শহরের আয়তন, জনসংখ্যা ও সেবা সংস্থার কর্মপরিধি বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। অতঃপর বাড়তে থাকে ঝিনাইদহ পৌরসভার আয়তন-পরিধি আর জনসংখ্যা। ২০০৪ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ আধুনিকায়ন করে রূপান্তরিত হয় ‘ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র’।ঝিনাইদহ শহরের প্রধান সেবা এই সংস্থা পার করেছে নানা চড়াই-উতরাই। পৌরসভার প্রধানের আসনে কখনো মনোনীত, কখনো নির্বাচিত; প্রতিনিধিরা বসেছেন। তবে দল মনোনীত নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই বেশি সময় পৌর চেয়াম্যোন-মেয়র প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।এবারই প্রথম স্বতন্ত্রভাবে জনতার ভোটে পৌরপিতার প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন জনতার মেয়র কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল । ঝিনাইদহ পৌরসভাকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ৯জন নির্বাচিত কমিশনার/কাউন্সিলর ৩জন সংরক্ষিত মহিলা কমিশনার/কাউন্সিলর নির্বাচনের মাধ্যমে ঝিনাইদহ পৌরসভা গঠন করা হয়। একজন মেয়র এবং ১২জন কমিশনাররা প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি।অবশেষে গত ১১ সেপ্টম্বর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল মেয়র নির্বাচিত হন। ২অক্টোবর ২০২২ সালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী (এনডিসি) নবনির্বাচিত মেয়র কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজলকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ৩ অক্টোবর তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।পৌর প্রশাসক মোঃ ইয়ারুল ইসলাম দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।