পঞ্চগড়ে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ এক গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০২২ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

ডিজার হোসেন বাদশা, নিজস্ব প্রতিনিধি, পঞ্চগড়, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পঞ্চগড়ে পৃথক এলাকায় দুই শিশুসহ এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার দুই উপজেলার পৃথক এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হলেন, জেলার আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিঠুপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের স্ত্রী রুমা বেগম (২৯), একই উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের তোড়িয়া বাজার মসলিম উদ্দিনের ছেলে আলিফ (২) ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ চরতিস্তাপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ রুমা মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। বুধবার দুপুরে বাড়ির বাইরে যায় স্বামী আব্দুর রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এদিকে বাড়িতে এসে রুমাকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির এক পাশে থাকা গোয়াল ঘরে গলায় ফাঁস লাগা ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এদিকে বিকেলে একই ইউনিয়নের তোড়িয়া বাজারে বাড়িতে খেলা করছিল শিশু আলিফ। মা বাথরুমে গেলে আলিফ খেলার ছলে কিছু দূরে থাকা একটি ডোবার পাশে যায়। এসময় ডোবার পানিতে পড়ে যায়। মা বেশ কিছু সময় পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে ডোবার পানিতে শিশুটিকে ভাঁসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ চরতিস্তাপাড়ায় রুহুল আমিনের ছেলে আব্দুল্লাহ কয়েকজন শিশুর সাথে বিকেলে খেলা করছিল। এক পর্যায়ে খেলার ছলে মাটিতে পড়ে যায় সে। ব্যথা পেয়ে বাড়িতে ফিরে মা-বাবাকে বলে দেয়। এর মাঝে বাড়িতে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। পরিবারের লোকেরা এসময় তাকে দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ও দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন দুই শিশুসহ এক গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটোয়ারীর গৃহবধূ রুমা ও দেবীগঞ্জের শিশু আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর মূল কারণ বিস্তারিত জানা যাবে।