মাতা পিতাহীন সাকিলা ও নয়নতারা খুঁজে পেল নতুন ঠিকানা

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৮, ২০২২ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাতা-পিতাহীন দুই কন্যা সাকিলা (২১) ও নয়নতারা (২৩) খুঁজে পেল নিজেদের নতুন ঠিকানা। তাঁরা কেউই কখনো ভাবেনি তাদের নতুন ঠিকানার সন্ধান পাবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রচেষ্টায় সমাজ সেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এতিম ও প্রতিবন্ধী মেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেড়ে উঠা ওই দুই কন্যা ‘শাকিলা ও নয়নতারার’ জাঁকজমক ও আড়ম্বর-পূর্ণভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ২৭ অক্টোবর। অভিভাবকহীন দুই কন্যার বিয়ের অভিভাবক জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান নিজেই। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই নবদম্পতিকে এক লক্ষ করে মোট ২ লক্ষ টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাকিলা ইসলামের বিয়ে হয় আল আমিনের সঙ্গে এবং নয়নতারার বিয়ে হয় মোঃ সাব্বিরের সঙ্গে। বর আল আমিন টিউবওয়েল মিস্ত্রি এবং সাব্বির সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। ওই দুই তরুণী গত দুই বছর আগে সিলেট সমাজসেবা পরিচালিত শিশু পরিবার থেকে মৌলভীবাজারে এসেছে। এখানে বেড়ে উঠে সাকিলা ড্রাইভিং ও নয়নতারা টেইলারিং শিখছে। দুই দম্পতির জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর। বিয়েতে প্রায় ৩শত মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানসহ সরকারি বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর বুধবার তাদের জমকালো গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাবরিনা রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তারা। জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান বলেন, এরা আমার মেয়ের মত। তাদের বিয়েতে যাতে কোনও ধরনের কমতি না হয়, এজন্য সব আয়োজন করা হয়। দুই মেয়ের অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দুই কন্যার জন্য দোয়া করেছেন। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, একজন পিতা তাঁর কন্যাদের যেভাবে বিয়ে দেন, তেমনি এ কন্যাদের পিতা হিসেবে একজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতো আমরা তাদের বিয়ে দিচ্ছি। সকল নিয়ম, সকল আনুষ্ঠানিকতায় এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হল। কোন জিনিসের কমতি ছিলনা। তাদের অনাগত দিনগুলোর জন্য শুভেচ্ছা কামনাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই নবদম্পতিকে ১ লক্ষ টাকা করে উপহার দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের খোঁজখবর সবসময় নেয়া হবে।