পরিবেশ সুরক্ষা ও স্মার্ট বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় জোর প্রদান

প্রকাশিত : নভেম্বর ৫, ২০২২ , ৯:২৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২২’-এর খসড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্মার্ট বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর (২০২২) এই আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২২’-এর খসড়ায় সংযুক্ত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন উর্বর কৃষিজমি রক্ষা, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সংরক্ষণের ব্যবস্থাসহ ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলনের ফলে উক্ত জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমি বা প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন হলে তা বন্ধ করার বিধান। এছাড়া, পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হয় কিংবা পার্শ্ববর্তী ভূমির ক্ষতি, চ্যুতি বা ধসের কারণ উদ্ভব হয় এমন কোনও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি হতেও কোনও বালু বা মাটি উত্তোলন না করার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। ইজারা কার্যক্রম দ্রুত অনলাইনে সম্পাদন, বালু উত্তোলন কার্যক্রম ও পরিমাণ মনিটরিং করার জন্য স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার বা সিসি ক্যামেরা স্থাপন বা ৬ মাস পর পর ডিজিটাল সার্ভে করার বিধানও রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রয়োজনে বা জনগুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ইজারা বহির্ভূত বালুমহাল ও অন্য এলাকা হতে বালু বা মাটি উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের প্রযোজ্য না হওয়া এবং ইজারা বহির্ভূত থাকা বালুমহাল থেকে খাস আদায় পদ্ধতিতে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিধান এই প্রস্তাবিত আইনে সন্নিবেশ করা হয়েছে। অসাধু ব্যক্তিদের অপতৎপরতা রোধ করার জন্য যেসব বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ইজারার শর্ত ভঙ্গকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অপরাধের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্তকরণ ও ক্ষতিপূরণ আদায় ইত্যাদি। এছাড়া, উত্তোলিত বালু পরিবহনের কারণে কোনো রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বালু পরিবহনকারী কর্তৃক মেরামত করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান এই আইনের খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বালুমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, বালুমহাল হতে পরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বিপণন, এর নিয়ন্ত্রণ, এই সংক্রান্ত সংঘটিত অপরাধসমূহ দমনসহ বালুমহাল ব্যবস্থাপনা সার্বিকভাবে যুগোপযোগী করার জন্য ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২২’ এর খসড়া মন্ত্রিপরিষদে পাস হওয়ায় এই আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হলো।