ঐতিহাসিক কামান্না দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৭, ২০২২ , ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর ভোররাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের কামান্না গ্রামে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে ২৭ মুত্তিপাগল যুবক, স্থানীয় ফনিভ’ষন কুন্ডু ও রঙ্গনেছা নামে এক গৃহবধূ । দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মত স্থানীয় এবারও পালিত হলো ঐতিহাসিক কামান্না দিবস। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, কামান্না ২৭ শহীদ স্মৃতি সংঘ ও বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শৈলকুপা উপজেলা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বনি আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় ঝিনাইদহ- ১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম আব্দুল হাকিম আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবি কালু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শৈলকুপা উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার রহমত আলী মন্টু এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ শ্রীপুর উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বিশ্বাস ইকরাম আলী, নির্বাচন কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বাস লুৎফর রহমান এবং বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শিমুল বিশেষ অতিথি ছিলেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৫১ বছর আগে দেশের সর্বাধিক শহীদদের রক্তে পাওয়া স্বাধীনতা আজ বিপন্ন করতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রাখতে তাদের নির্মূল করতে না পারলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ ঝুঁকতে পড়বে। গণতন্ত্রের মানসকন্যা, বঙ্গবন্ধু’কন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণও সংশয়ে নিপতিত হবে। ৭১ রেসই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের প্রজন্মকে নিয়ে সব অপশক্তির মোকাবেলা করে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে সবার প্রতি উদাত্ত আহবান জানান তারা। এলাকাবাসী বাড়িটির বর্তমান মালিক পানু কাজির ছেলে লেফটেনেন্ট কর্নেল কাজি শাহিনুজ্জামান রাসেলের দান করা পাঁচ শতাংশ জমির ওপর যে ঘরটিতে ২৭ বীর যুবক শহীদ হয়েছিলেন, সেটিকে অক্ষুণ্ণ রেখে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণের দাবি জানান। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে কামান্না হাইস্কুলের পশ্চিমদিকে মাধব ভৌমিকের বাড়িতে তৎকালিন মহকুমা শহর ঝিনাইদহ, থানা শহর শৈলকুপা আর পার্শ্ববর্তী মাগুরা থেকে কয়েকশ হানাদার বাহিনীর সদস্য ও তাদের স্থানীয় সহচর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস এসে মাধব ভৌমিকের বাড়ি, আশেপাশের এলাকা, অবস্থান নেয় ভারি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে। রাত ভোর হবার কয়েকঘন্টা আগেই তারা অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমকাতুরে দামাল ছেলেদের ওপর। তারা গুলি আর বেয়নেটের আঘাতে ২৭ মুত্তিপাগল যুবকর, কামান্নার ব্যবসায়ী ফণিভ’ষণ কুন্ডু আর গৃহবধূ রঙ্গনেছাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা বারইহুদা গ্রামের কলেজ-ছাত্র বিশ্বাস লুৎফর রহমান যিনি পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব হয়ে অবসরে গেছেন, তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে ছয়টি গণকবরে সমাহিত করেন মোমিন, কাদের, শহিদুল ইসলাম, সলেমান, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল ওয়াহেদ, রিয়াদ, আলমগীর হোসেন, আব্দুল মোতালেব, আলী হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, আলিমুজ্জামান, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, নাসিম, রাজ্জাক-২, কওসার আলী, আব্দুল মালেক, আব্দুল আজিজ, আকবর হোসেন, সেলিম, হোসেন, রাসেদ, গোলজার আহমেদ, অধির ও গৌরকে।