মৌলভীবাজারে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৩, ২০২২ , ৭:১৭ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কনফারেন্সে মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়, বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ, জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সভাপতি এ. এস. এম. আজাদুর রহমান ও বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল হোসেন ইশবাল, বিজ্ঞ অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর, র‌্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের প্রতিনিধি সহকারী পুলিশ সুপার, তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রতিনিধি সহকারী সার্জন, জেল সুপার, উপ-পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি পরিদর্শক, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, ইন্সপেক্টর, পিবিআই ও সি.আই.ডি, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এবং জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জগণ উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সের শুরুতে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন। তারপর তাঁর সদয় অনুমতিক্রমে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন-ক্রমে স্বাগত বক্তব্যে মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলার ও বিভিন্ন থানার মুলতবী পরোয়ানার বিবরণী এবং কনফারেন্সের আলোচ্য সূচী তুলে ধরেন। মৌলভীবাজার আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল হোসেন ইকবাল বলেন- আদালত ভবনের নিকটবর্তী জেলা আইনজীবী সমিতির ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরী, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা রেজিস্টার ও সাব-রেজিস্টারের কার্যালয়, পৌর জনমিলন কেন্দ্র, ১টি বেসরকারি হাইস্কুল ও ২টি সরকারি কলেজ থাকায় কর্ম দিবসে কোর্ট রোডে বহু জনসমাগম হয়ে থাকে ও গাড়ি চলাচল করে। ফলে, যানজট সৃষ্টি ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়। তাই, আদালত এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা আরো জোরদার করার এবং একই সাথে আদালতে আগত সাক্ষী ও বিচার-প্রার্থী জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ আদালত প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় তাঁর বক্তব্যে মামলার তদন্ত কার্যসহ পুলিশের সার্বিক কাজে সু-পরামর্শ ও সহযোগিতা করায় মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত বিচারকগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন। সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ তাঁর বক্তব্যে দ্রুততার সাথে মেডিকেল সার্টিফিকেট, পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট, ধর্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা রিপোর্ট প্রেরণ এবং স্পষ্টাক্ষরে ও কম্পিউটার কম্পোজ করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং জেলার বিভিন্ন থানায় তদন্তাধীন থাকা মামলার তদন্ত কার্য দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করত: তাদের নিরাপত্তা বিধান, গ্রেফতারের পর আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার, পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার, নিষ্পত্তির নিমিত্তে পি.আরমূলে জব্দ থানা মালখানায় থাকা আলামতের তালিকা তৈরি করে আদালতে প্রেরণ, বহন অযোগ্য ও পচনশীল আলামত নমুনা সংরক্ষণ করে ধ্বংসের নিমিত্তে আবেদন প্রেরণ এবং মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিচারক ও থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য উপস্থিতি কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার আইনি সমাধান, প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করত: সমাপনী বক্তব্যে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান বলেন, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।