শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১০, ২০২২ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর নিকট থেকে জানা গেছে বর্তমান আরএমও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ফায়দা লুটছেন শৈলকুপার স্থানীয় ক্লিনিক মালিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বছরাধিককাল কোন ডিউটি রোস্টারে নাম না লিখিয়ে ইচ্ছেমত দায়িত্ব পালন, অফিস সময় এবং পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে অ-নৈতিকভাবে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবাদান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অ-নৈতিকভাবে সেবাগ্রহীতাদের ব্যবস্থাপত্র মোবাইল-ফোনের মাধ্যমে কপি করতে সহায়তা করা এবং বিধি-বহির্ভূতভাবে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবস্থাপত্র লিখতে চিকিৎসক ও উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের নিয়ম মানতে বাধ্য না করার মত অভিযোগ ওই সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ছত্রছায়ায় দালাল দিয়ে সরকারি হাসপাতালের রোগীকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা করানোসহ নানা ধরনের অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় এবং বাইরের কিছু রোগী জানান, গত একবছরে নিজের ডিউটি রোস্টারে জরুরি বিভাগ, ইনডোর, বহির্বিভাগ বা অন্য কোথাও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্রমাণ মেলেনি। সুকৌশলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার বা ইউএইচএফপিওকে ম্যানেজ করে তিনি ডিউটি রোস্টারে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। কোনরকম সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিজিট করার জন্য কর্র্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশণা থাকলেও তিনি তা কেয়ার করেন না। ফলে ওইসব প্রতিনিধি অবাধে হাসপাতাল চালাকালিন ঘোরাফেরা করেন, চিকিৎসক ও সেকমোদের প্রচুর পরিমাণে স্যাম্পল দিয়ে চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সময় নষ্ট করেন যা সুচিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটায়। ওষুধ কোম্পাণির প্রতিনিধিরা রোগির ব্যবস্থাপত্র তাদের অনুমতি ছাড়াই মোবাইলফোনের মাধ্যমে কপি করেন প্রকাশ্যে। তাদের অভিযোগ, এলোপ্যাথিক ওষুধের পাশাপাশি কিছু মেডিকেল অফিসার ও উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা সেকমো ইউনানি ও আয়ূর্বেদিক কোম্পাণির প্রতিনিধিদের “শর্তপূরণে” চড়াদামের পেটেন্ট সিরাপ লেখে দেন যার যৌক্তিকতা ও উপকারিতা শুণ্যের কোঠায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশেপাশের এলোপ্যাথিক ফার্মেসিগুলোও এসব ওষুধ নির্বিঘেœ বিক্রি করে চলেছে। এদের থামানোর ব্যবস্থা করেনে নি দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই সরকারি চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজায়েত হোসেনের মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিপ করেননি।এবিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদ আল মামুন জানান, (আরএমও) ডা. সুজায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তা ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। এব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. শুভ্র রাণি দেবনাথের সাথে কথা বললে তিনি জানান, শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগ, ইন্ডোর, বাহির্বিভাগ বা অন্য কোথাও নির্দিষ্ট সেক্টরে আরএমও ডা. সুজায়েত হোসেনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা না থাকায় ডিউটি রোস্টারে নাম উঠানো হয়নি। তবে তিনি সার্বক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে প্রতিমুহুর্তে কর্মকান্ড সুচারুভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যান্য অভিযোগগুলো তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।