শিবগঞ্জে ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২১, ২০২২ , ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

আশরাফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় অতি-দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মসূচি প্রকল্পে কাজ করছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশু শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি অনেক গোপন নাম দিয়েও প্রকল্পের কাজ। এ ছাড়াও শ্রমিকদের হাজিরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের অতি-দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার ৪০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এজন্য রাস্তা, বাঁধ নির্মাণ ও স্কুলের মাঠ সংস্কারের জন্য প্রকল্প নেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতি-দরিদ্রদের বাছাই করে কাজ বাবদ প্রতিদিন ৪’শ টাকা হিসেবে একেক জনের পারিশ্রমিক ধরা হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীরা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সরেজমিনে শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১নং ওয়ার্ড গোপালপুর চাপড় রাস্তা ফরিদের বাড়ি হতে কালভার্ট পর্যন্ত ভায়া গোপালপুর রাস্তা লেধ্রীরবাগান হতে সেন্টুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে শ্রমিক কাজ করলেও তা স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিশু শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছেন প্রকল্পের সভাপতি মো. হুমায়ন কবির। এই প্রকল্পে ৮৩জন শ্রমিকের মধ্যে ২১জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও বালিয়াদিঘী দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র ও ইউনুস আলীর ছেলে জিহাদ আলী, গোপালপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র, বাসির আলী ছেলে ও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ডিগ্রী-কলেজের এইচ.এস.সি ১ বর্ষ পড়–য়া ছাত্র আওয়াল হোসেন কে কাজ করতে দেখা গেছে। এছাড়া ২নং ওয়ার্ডের দমদমা পুকুর হতে মাঝাঘোন পুকুর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৬নং ওয়ার্ডে আকুটার বন রাস্তা জবেদ ডাক্তারের বাড়ি হতে রাস্তার শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৯ নং ওয়ার্ডে নামোচাকপাড়া গ্রামের আশাড়ীর বাড়ি হতে উপরচাকপাড়া কালভার্ট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৭ নং ওয়ার্ডের তেলকুপি গ্রামে জেন্টুর বাড়ি হতে লাল বাবুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে তেমন কোন শ্রমিক লক্ষ্য করা যায়নি। অন্যদিকে, দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্পে ১নং ওয়ার্ডে কর্নখালি গ্রামের বালুয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শরীফ এর জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ২ নং ওয়ার্ডে মির্জাপুর কালিতলা গ্রামের শহিদুলের বাড়ি হতে দৌলত বাড়ি সতিসের পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৪ নং ওয়ার্ডের মল্লিকপুর গ্রামের মকবুলের বাড়ি হতে তোজাম্মেলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, মনাকষা ইউনিয়নের চৌকা, রাঘববাটি, শিংনগর প্রকল্প, বিনোদপুর ইউনিয়নের নামো কালিগঞ্জ, লছমানপুর এলাকার প্রকল্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া কানসাট, মোবারকপুর, চককীর্তি, ধাইনগর, ছত্রাজিতপুর, নয়ালাভাঙা, দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রকল্পগুলোর একই অবস্থা দেখা গেছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেশিভাগ প্রকল্পের সভাপতিগণ তালিকা গোপন নাম দিয়ে তাদের মোবাইলের সিম কার্ড নিজের কাছে রেখেছেন। সূত্রমতে চুক্তিবদ্ধ যে, প্রকল্পের পারিশ্রমিকের টাকা আসলে সিম চালু করে টাকা উত্তোলন টাকা অর্ধেক শ্রমিক নিবে আর অর্ধেক প্রকল্প সভাপতি নিবেন। মনাকষা, বিনোদপুর, শাহবাজপুর, নয়ালাভাঙা সহ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এমনকি মুঠোফোনও রিসিভ করেননি। এছাড়া, দাইপুখুরিয়া, ধাইনগর, চককীর্ত্তি, কানসাট, মোবারকপুর, ছত্রাজিতপুর সহ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যানগণ বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে, কোন অনিয়ম হয়নি। শ্রমিকদের হাজিরার ক্ষেত্রে আমরা সর্তকতা অবলম্বন করছি। যে শ্রমিক কাজ আসে না, তাদের অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। তবে, মনাকষা ইউপি সচিব মোঃ তানজিমুল হক জানান, এই প্রকল্পটি আসলেই অসহায়দের জন্য। আমার জানা মতে, প্রতিটি প্রকল্পে হাজিরা শতভাগ হচ্ছে। কোন অনিয়ম হচ্ছে না। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, যেহেতু শ্রমিকদের নিজস্ব বিকাশ নম্বরে টাকা যাবে, সেহেতু টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নাই। আর কোন প্রকল্পে শিশু শ্রমিক কাজ কাজ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাজিরা ব্যাপারে তিনি জানান, আমার স্বাক্ষরিত প্রত্যায়ন-পত্র ছাড়া কোন কোন কাগজে হাজিরা করতে পারবে না। যাদের হাজিরা থাকবে না, তাদের টাকা ফেরত যাবে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে আমি কয়েকটি ইউপির প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছি। কিছুটা অনিয়ম লক্ষ্য করেছি এবং তাদেরকে সর্তকতামূলক নোটিশ দেয়া হয়েছে।