শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নে অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৪, ২০২২ , ৫:০৫ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১০নং বগুড়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বগুড়া ইউনিয়নে ৬০দশক আগের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত গোবিন্দ গোপাল মজুমদার এর পরিবার ও তার নাতি তন্ময় মজুমদার। শনিবার সকাল ১১টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তুষার কান্তি মজুমদারের ছেলে তন্ময় মজুমদার বলেন, গত ১১/০২/২০২১ ইং তারিখে সন্ধ্যা ৭ টার সময় ষড়যন্ত্রমূলক-ভাবে বর্তমান মেম্বার মোঃ ফরিদ মুন্সি, পিতা: মৃত আইয়ুব মুন্সি, গ্রাম: বগুড়া, মাহাতাব খা, পিতা: মৃত বজলু খা, গ্রাম: বগুড়া আমাকে শ্রীপুর বাজারে ডেকে নিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার জন্য জোর পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। আমি পরবর্তীতে উক্ত ঘটনা আমার পিতার সাথে আলোচনা করি এবং সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জমা-জমি রক্ষার্থে এবং নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য আমার পিতা আমার নামে একটি মামলা দিয়ে আমাকে ঝিনাইদহ সদর থানার মাধ্যমে আমাকে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং আমি গত ১৫/০৩/২০২১ থেকে ২৬/০৯/২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত কারাভোগ করি। বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সিসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। গত ০৫/০৭/২০২১ ইং তারিখ হতে আমার পরিবারের উপর একের পর এক হামলা ভাংচুর এবং প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলেছে।বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সি তার লোকজন দিয়ে পুকুরের মাছ, নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সিসহ তার দলবল চাঁন মিয়া, পিতা: সৈয়দ মিয়া, গ্রাম: আলফাপুরসহ জোর পূর্বক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। আমি তন্ময় মজুমদার গত ০৪/০৯/২০২২ ইং তারিখে আমার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সির নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী খলিল মিয়া, পিতা: মোঃ আব্দুল হাই মিয়া, আদর আলী, পিতা: মোঃ সাজ্জাদ আলী, ৩। বোরহান কাজী, পিতা: মোঃ ভদ্দর কাজী বাহিনী আমার মা সাবেক মহিলা মেম্বার সহ আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করাসহ নগদ ১,৯৩,০০০/- (এক লক্ষ তিরানব্বই হাজার) টাকা লুট করে নিয়ে যায় এবং আমরা যেন প্রশাসনকে না জানায় না সে ব্যাপারেও হুমকি প্রদান করেন।এরপরেও আমরা বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণকে ও শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জসহ এস.আই আনিসকে ঘটনা অবহিত করি।সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কামারিয়া গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা করার বর্ণনা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন। তারা গত ১৯/১০/২০২২ দিবাগত রাতে আমার কলার বাগিচা কেটে উজাড় করে দেয়। এছাড়া গত ১৩/১২/২০২২ ইং তারিখে প্রকাশ্য দিবালোকে বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সির নেতৃত্বে তার দলবল নিয়ে জোরপূর্বক আমাদের জমি থেকে বাঁশ কাটতে থাকে এবং জমি দখল করার চেষ্টা করে। আমি এবং আমার পরিবারের লোক বাধা দিলে পূর্বের ন্যায় প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনার ফলে আমি ঝিনাইদহ আদালতে গিয়ে ফৌজদারী দণ্ডবিধি আইনে একটি মামলা করি। যার মামলা নম্বর: ১০৬৫/২২, তারিখ: ১৪/১২/২০২২। আমার পরিবার আলফাপুর রত্নাট-বগুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর নামে ৬৫শতক জমি দান করেও আমি বা আমার বাবা দাতা সদস্য হতে পারিনি।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি থেকে আমাদের নাম দাতা সদস্য হতে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করে তারা নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। লিখিত বক্তব্যে দাবী করা হয়, আতিয়ার মিয়া, লাল মিয়া, জামাল মিয়া, কামাল মিয়া এবং বিল্লাল মিয়া এবং তাদের বোনদের নামে আমাদের বেনামাকৃত জমি পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ক্ষমতাবলে উক্ত ব্যক্তিরা আমাদের জমি ফেরত প্রদান করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। এছাড়াও আমার দুইটি পুকুরের লীজ বাবদ ২ বছরের ১৯২০০ টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও তারা ৫০০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে আমরা রেহায় পেতে পারি সে ব্যবস্থাসহ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী দলবলের হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন হস্তক্ষেপ কামনাসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর এবং জানমালের আশু নিরাপত্তা বিধানেরও দাবি জানানো হয়।এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তুষার কান্তি মজুমদার,অমলা রানী মজুমদার,তাপসী রানী মজুমদার ও চিন্ময় মজুমদার। তন্ময় মজুমদার এর বিরুদ্ধে অপর এক পালটা সংবাদ সম্মেলনে করেন একই ইউনিয়নের মাহাতাব খাঁ নামের এক ব্যক্তি। তন্ময় মজুমদার এর নিকট থেকে জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে একই স্থানে শনিবার দুপুর ১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহাতাব খাঁ বলেন,তার নিকট থেকে তন্ময় মজুমদার ২৯শতক জমি দুই লক্ষ আশি হাজার টাকায় বিক্রয় করে এবং দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা বায়না বাবদ নিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে টালবাহানা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। মাহাতাব খাঁর ১৮/০২/২০২১ইং তারিখের একটি বায়না নামায় দেখা গেছে, ২৯ শতক জমি বিক্রয়ের স্থলে ৬৯শতক জমি বায়না নামায় লেখা হয়েছে এবং দুই লক্ষ আশি হাজার টাকার স্থলে বিশ লক্ষ আশি হাজার টাকার বায়না নামা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মাহাতাব খাঁ বলেন, আমি লেখা-পড়া জানিনা,সে কারনে বর্তমান মেম্বার ফরিদ মুন্সিসহ স্টাম্পে উল্লেখিত সাক্ষীদ্বয় বায়না নামাটি তৈরি করেছিল।তবে তন্ময় মজুমদার বায়না নামাটি অস্বীকার করে বলেন জালিয়াতি ভাবে বায়না নামাটি তৈরি করা হয়েছে।আমি উক্ত জালিয়াতি বায়না নামার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবো বলে জানান।