পঞ্চগড়ে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষে ৮জন গ্রেফতার

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৫, ২০২২ , ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

ডিজার হোসেন বাদশা, নিজস্ব প্রতিনিধি, পঞ্চগড়, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পঞ্চগড়ে বিএনপির গণ মিছিলে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিএনপি ও জামাতে ইসলামের ৮ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম সিরাজুল হুদা মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে নাশকতা সৃষ্টিসহ পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাঁধা, ককটেল বিস্ফোরক হামলার অভিযোগে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনগত গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এদিকে বিএনপির নেতা কর্মীরা দাবী তুলছেন সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে আব্দুর রশিদ আরেফিন নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গণ মিছিলে পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের আঘাতে আব্দুর রশিদ আরেফিন গুরুতর আহত হয়। সহকর্মীরা আরেফিনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত। পুলিশ আমাদের গণ মিছিলের উপর হামলা চালায়। উল্টো পুলিশ গভীর রাতে বিএনপির নেতা- কর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আটক করছে। কতিপয় অতি উৎসাহিত পুলিশ পঞ্চগড়কে কলুষিত করল আমরা এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এসপি এসএম সিরাজুল হুদা বলেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা গণ মিছিলের নামে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশ তাদের বাধা দিতে গিলে তারা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এসময় তারা আরও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, এতে পুলিশ-বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ ও বিএনপির ২০ থেকে ২৫জন কর্মী আহত হয়। তবে গতকালের ঘটনায় আব্দুর রশিদ আরেফিন নামে যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তার হার্টের তিনটি বাইপাস সার্জারি করা ছিল। স্বাভাবিক ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তেও একই বিষয় উঠে এসেছে। এসপি এসএম সিরাজুল হুদা আরও বলেন, এ ঘটনায় সিসি টিভি ফুটেজ ও আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যভিত্তিক ৮১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১১শ থেকে ১২শ জনকে অজ্ঞাত রেখে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে রবিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আব্দুর রশিদ আরেফিনের পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় শহরে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় আড়াই ঘন্টার অধিক সময় পর পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় পুলিশ-বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হয়।