নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা

প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০২২ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মো.হাসিবুল বাশার হাসিবকে (৫) নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের বেতুয়াবাগ সুবাহান মার্কেট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিবুল বাশার গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের ইউনুস মৌলভীর বাড়ির মৃত আবুল বাশারের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য। বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে উপজেলার ২ নং গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হাসান, মাদক ব্যবসায়ী মাসুম ও তাদের অস্ত্রধারী সাঙ্গ-পাঙ্গরা বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপালপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের সুবাহান মার্কেট এলাকায় হাসিবুলের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা হাসিবুলকে ছুরি দিয়ে মাথায় ও গলায় জবাই করে গুরুত্বর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। রাহাত চৌধুরী অভিযোগ করে আরও বলেন, কয়েক বছর আগে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ মিয়ার হাত ধরে ২ নং গোপালপুর ইউনিয়নের সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বিএনপি থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। এরপর সালাউদ্দিনের হাত ধরে হাসান বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। হাসানের অপর সহযোগী মাসুম এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিছু দিন আগে হাসান ও মাসুম তাদের অনুসারীদের নিয়ে আরেক ছেলের পায়ের রগ কেটে দেয়। ওই ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় মামলা হলেও পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারেনি। ওই ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটত না। হাসান ও মাসুমের প্রধান ক্ষমতার উৎস আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সালাউদ্দিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, হামলা ও ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহত ছাত্রলীগ নেতা হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি।