কালীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত

প্রকাশিত : আগস্ট ২, ২০২২ , ৮:০৩ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজস্ব বাজেটের আওতায় রবি, খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমের প্রকল্পে আন্তঃ পরিচর্যা বাবদ রাজস্ব খাতে কৃষকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়। তারপর তিনি তড়িঘড়ি করে কৃষকদের নিকট থেকে কেটে রাখা জনপ্রতি একশ টাকা ফেরতও দেন। ঘটনাটি ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আজগর আলীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিক-ভাবে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ হালদারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন রোববার (৩১ আগস্ট )। বিজয় কৃষ্ণ হালদার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেন সোমবার (১ আগস্ট)। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকের রাজস্ব খাতের একশত টাকা প্রথমে কেটে রাখেন এবং পরবর্তীতে সেই টাকা আবার কৃষকদের ফিরিয়ে দেন। তার এই ধরনের কাজেই তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে গেছে। এরপরও অফিশিয়ালি তদন্ত করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট তদন্ত শেষে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছি। ঝিনাইদহ কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আজগর আলী জানান,কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিকদার মোহায়মেন আকতার এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত-পূর্বক একটি প্রতিবেদন আমি হাতে পেয়েছি। এই প্রতিবেদনটি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট পাঠিয়ে দিব। উল্লেখ্য: কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তারের বিরুদ্ধে রাজস্ব খাতের কৃষকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রান্তিক কৃষকের ধান, সরিষা ও ভুট্টা পরিচর্যা বাবদ দেড় হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষকের মাঝে এক হাজার ৪০০ টাকা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। কালীগঞ্জ নিমতলা মসজিদ সংলগ্ন রনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা-দানকারী একটি দোকান থেকে কৃষি অফিস থেকে আনা টোকেন জমা দিয়ে নগদ অথবা বিকাশে ১৪০০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ৩৩৩ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় এলেও ২৪৩ জন কৃষকের মাঝে ১০০ টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। এই প্রকল্প থেকে ২৪৩ জন কৃষকের কাছ থেকে ২৪ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উপজেলার নিয়ামতপুর, রাখালগাছি ইউনিয়নের কৃষক রকিব, মোমিনুর, নুরুল মালিতা, রতন ঘোষ, হামিদ, চানদালী ও সমির খাঁ’র সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা বিকাশে ১৪০০ টাকা পেয়েছেন। অথচ ১৫০০ টাকা করে প্রত্যেক কৃষকের পাওয়ার কথা ছিল বলে শুনেছি। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আজগর আলী, ‘কৃষকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে ।