হরিণাকুন্ডুর লালন সড়কের নির্মাণ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত : আগস্ট ১১, ২০২২ , ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: দিনে খোঁড়া হচ্ছে সড়ক। রাস্তার উপরের কালো পাথর (Blacktop) রাখা হচ্ছে দুই পাশে। আর রাতের আধারে ট্রাকে করে তা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অন্য কোথাও। এভাবে রাস্তার ‘ব্ল্যাক টপ’ ক’দিন ধরে সরিয়ে পর অবশেষে জনতার হাতে আটক হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ট্রাক ড্রাইভার। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার লালন সড়কের নির্মাণ কাজে। নিয়ম অনুযায়ী উপরের ব্ল্যাক টপ সড়কেই থাকার কথা। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এগুলো সরিয়ে নেওয়া নিয়ম বহির্ভূত। সিডিউল অনুযায়ী এগুলো সড়কেই থাকার কথা। উপজেলা এলজিইডি দপ্তরের তথ্যমতে, শহরের দোয়েল চত্বর মোড় থেকে বাকচুয়া পর্যন্ত সড়কটির ১১.২৩০ কিলোমিটার পুনর্নির্মাণের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৮ টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়। ইপিআইসি-কপোতাক্ষি জেভি নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরু করার কথা একই বছরের ১২ আগস্ট। আর নির্মাণ কাজ শেষের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি। কার্যাদেশের দীর্ঘ এক বছরেও কাজ শুরু না হওয়ায় সড়কটিতে জনসাধারণের ভোগান্তি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু করা হয় সড়কটির নির্মাণ কাজ। তবে চলছে ধীর গতিতে। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে। সোমবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সড়কের ওপরের কালো পাথর সরিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেয় স্থানীয় জনতা। তাঁরা দুই ট্রাক ড্রাইভারকে আটক করে খবর দেয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে। পরে সেখানে পাঠানো হয় পুলিশ। প্রথমে তারা দুই ট্রাক-চালককে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছেন, উপরের ওই কালো পাথর সড়কের অংশ। সেগুলি সড়কেই ব্যবহার করার কথা। সরিয়ে নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। হরিণাকুন্ডু শহরের চাতাল মোড় এলাকার নৈশ-প্রহরী মঈনুদ্দিন হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাতের বেলা ট্রাকে করে এগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই পাথর সড়কেই থাকবে এমন বিষয় জানতে পেরে স্থানীয় জনসাধারণ রাতে পাথর-ভর্তি দুটি ট্রাক আটক করে। ওই এলাকার ব্যবসায়ী লিটন বলেন, এই পাথর সড়কেই বালি ও খোয়ার সাথে মিশিয়ে পরে সড়কের নির্মাণ কাজে দেওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার সেটি না করে এগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে প্রথমেই নিন্মমানের কাজ করায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ শুরু করেন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আক্তার বলেন, ওই দিন রাতে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। অসৎ উদ্দেশ্যে রাতের আধারে পাথর সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই সরিয়ে নিয়ে সড়কের অন্য খারাপ জায়গায় দিচ্ছি। উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, ঘটনাটি আমি রাতেই শুনেছি। সেখানে আমি অফিসের লোক পাঠিয়েছিলাম। মঙ্গলবার সকালে আমি নিজেও সরজমিনে সড়কটির নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে ওপরের কালো পাথর সরিয়ে নেওয়ার সত্যতা পেয়েছি। সিডিউল অনুযায়ী এই অংশ সরিয়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই। এগুলো সড়কের সম্পদ সড়কেই থাকবে। প্রথমে সড়কের ওপরের অংশ খুড়ে সেখানে সমান করে তারপর রোলার দিয়ে ম্যাকাডাম করতে হবে। সবশেষে কার্পেটিং হবে। এই অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও সুস্মিতা সাহা বলেন, রাতে ঘটনাটি জানার পর আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি ব্যবস্থা নিতে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।