শৈলকুপায় শিক্ষক হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি ১জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০২২ , ৮:২৯ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসি, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শৈলকুপা উপজেলার শিতালী গ্রামের এবং হাটফাজিলপুর হাই স্কুলের শিক্ষক খান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি এবং একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। বুধবার ঝিনাইদহের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এর বিচারক মোঃ নাজিমুদ্দৌলা এই রায় প্রদান করেন।২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। মামলাটিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, শৈলকূপা উপজেলার শিতালী গ্রামের গোলাম কুদ্দুস খানের ছেলে রান্নু খান, শামছুর রহমান খানের ছেলে জামাল খান ও তার ভাই কানু খান। আসামীদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী একই গ্রামের ওমেদ আলী খানের ছেলে শামছুর রহমানকে আমৃত্যু দণ্ডের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আসামীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং নিহতের ভাই, ভাজিতা ও চাচা বলে জানা গেছে। আদালতে দেয়া রায় সূত্রে জানা গেছে, সুপারি গাছের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আসামীরা এজাহারকারী মোছাঃ শিউলী খাতুনের ভাসুরের ছেলে রিপন আনসারীর বাড়িতে ঢুকে মারধর করে। এ সময় স্কুল শিক্ষক খান মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ভাতিজাকে ঠেকাতে গিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী মোছাঃ শিউলী খাতুন বাদী হয়ে ৭ জন আসামীর নাম উল্লেখসহ আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে শৈলকূপা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার উল্লেখিত রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্র পক্ষের সরকারি কৌসুলি পিপি এ্যাডঃ ইসমাইল হোসেন বাদশা, এজাহারকারীর পক্ষে এ্যাডঃ তারিকুল আলম ও আসামী পক্ষে এ্যাডঃ শামসুজ্জামান তুহিন মামলাটি পরিচালনা করেন। এ ব্যাপারে নিহত খান মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের ছেলে শৈলকুপার হাটফাজিলপুর হাই স্কুলের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম খান জানান, “চোখের সামনে আমার পিতাকে হত্যা নির্মমভাবে করা হয়। এই রায়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তিনজন আসামীকে বিজ্ঞ আদালত খালাস দিয়েছেন। তারা সরাসরি হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমার মা উচ্চ আদালতে আপীল করবেন”। তবে মামলার রাষ্ট্র-পক্ষের আইনজীবী ইসমাইল হোসেন বাদশা বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। দ্রুত এই রায় কার্যকর যেন হয় সেই আশা করছি।