ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে স্কুল কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে মামলা

প্রকাশিত : আগস্ট ২৫, ২০২২ , ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ না থাকা এবং প্রার্থীদের উপর হামলাসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ায় ২৩ আগস্ট ঝিনাইদহ আদালতে মামলাটি করেন গোলাম মোস্তফা ও দেলোয়ার হোসেন নামে দুই অভিভাবক সদস্য। তারা বর্তমানে বাড়িয়ে ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার গত ৮ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী ১০, ১১ ও ১৪ আগস্ট মনোনয়ন বিতরণ ও জমাদান এবং ২৮ আগস্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বাদিসহ পাঁচ অভিভাবক সদস্যদের মনোনয়ন ফরম তুলতে বাধা দেন রাজিব হোসেন, আক্তার হোসেন, সাগর ও জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন। এমনকি মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গেলে দুই প্রার্থী লাঞ্ছিত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভুক্তভোগীরা।অভিভাবক সদস্য প্রার্থী গোলাম মোস্তফা জানান, মনোনয়ন যাচাই বাছয়ের পর গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার ফাজিলপুর বাজারে ভোট চাইতে গেলে চার অভিভাবক প্রার্থীর উপর হামলা করে। সেখান থেকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল মান্নান তাদের রক্ষা করেন। একদিন পর ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আমার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি বন্ধ চায়ের দোকানে বসিয়ে বলে, তোর যদি জানের ভয় থাকে তাহলে ভোটারদের বাড়ি যাওয়া বন্ধ কর। ভোট চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ছাড়া ভোট চাইতে যাওয়ায় আমার সমর্থক সবুজ, রবিউল ও আমির হোসেনকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর থেকে আমি প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুইটার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে গেলে আমাকে কয়েক যুবক গালিগালাজ, শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত ও কাছে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ ব্যাপারে এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খানের সাথে কথা হলে জানান, ম্যানেজিং কমিটির সব প্রার্থীরা ভোট চাচ্ছে, কোন সমস্যা নেই। উৎসব মুখর পরিবেশ, কেউ কারো বাধা দিচ্ছে না। যারা ভোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছে তা অসত্য প্রচার করছে বলে যোগ করেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, আমি একটি প্রশিক্ষণে আছি, আদালত থেকে একটি চিঠি এসেছে জেনেছি। আদালত ভোট স্থগিত করলে আমি ভোট নেব না।