বেগমগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে মারধরের ছবি ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৯:২৯ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা ও চাঁদা না দেওয়ায় নোয়াখালীর চৌমুহনীতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি হুমায়ুন কবিরকে(৪৫) প্রকাশ্যে মারধরের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রবিবার বিকেলে চৌমুহনীর ডি.বি রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হুমায়ুন কবিরকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চৌমুহনী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হলে সেই কমিটিতে চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন ওরফে মহুরি মনিরকে যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপি থেকে সদ্য যোগ দেয়া ইসতিয়াক আলম সোহানকে সদস্য প্রস্তাব করলে জেলা কমিটি তা বাতিল করে দেয়। কিন্তু দুজনেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ ও পৌর মেয়র খালেদ সাইফুল্যাহর আশ্রয় প্রশ্রয়ে থানায় দালালি, টেন্ডার-বাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরকারী দলের আন্দোলন সংগ্রাম চললেও উল্লেখিত মনির ও সোহানকে রাজপথে না দেখায় সমালোচনা ও ফেসবুকে লেখালেখি করে হুমায়ুন কবিরের সমর্থকরা। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত মনির হোসেন চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। এতে হুমায়ুন কবির ও তার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩১ আগস্ট চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা চলাকালে পাবলিক হলে মহুরি মনিরকে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনায় মহুরি মনির বাদী হয়ে হুমায়ুন কবিরসহ তার কয়েকজন কর্মী সমর্থককে আসামী করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিলো। রবিবার বিকালে সাবেক যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির বাড়ির নির্মাণ কাজের জন্য রড কিনতে গেলে মুহুরি মনির ও সোহানের উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর চালিয়ে পিটিয়ে মাথায় আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। হামলা ও মারধরের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। হুমায়ুন কবির যুবলীগের একজন ত্যাগী নেতা ছিলো বলে সর্ব মহলে স্বীকৃত। এদিকে এই হামলার ঘটনায় হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মনির হোসেন মহুরি মনির, ইসতিয়াক আলম সোহান, রায়হান উদ্দিন, লুৎফুল্লাহিল মাজেদ তেল রাসেল, ফাহাদ সিকদার ছিনতাইকারী ফাহাদ, শাহাদাত হোসেন, অপু চোরা অপু, নওশাদ চোরা নওশাদ, অয়নসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-১২, তাং-৫-৯-২০২২ইং। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত হুমায়ুন কবির জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়রের ইন্ধনে বিএনপি জামায়াত থেকে আসা হাইব্রিড আওয়ামী লীগ প্রকৃত আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য মাঠে নেমেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করায় আজ হামলার শিকার হলাম। তিনি বলেন, ওরা টেন্ডার-বাজি, চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকলেও স্থানীয় এমপি ও মেয়রের অনুগত হওয়ায় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এদিকে আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতালে দেখতে যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদ উল্যাহ খান সোহেল। এ সময় তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবী করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ইতিমধ্যে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। মামলা হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সোমবার সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার হুমায়ুনের বিরুদ্ধে এর আগে মনির মহুরি থানায় মামলা করেছেন। তিনি(মনির মহুরি) তার (হুমায়ুন কবির) উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। যার কারণে এই হামলা ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হুমায়ুন কবিরের দেয়া এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, বেগমগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বেড়েছে কিশোর-গ্যাং-এর দৌরাত্ব। আতঙ্কে রয়েছে চৌমুহনী শহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।