চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বালিয়াডাঙ্গীতে সংঘর্ষে আহত মৎস্যজীবী লীগ নেতা

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত মৎস্যজীবী লীগ নেতা সাকিল আহম্মেদ (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রবিবার ভোররাত ৫টায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাকিল আহম্মেদের বড় ভাই যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম। সাকিল আহম্মেদ ভানোর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী গ্রামের মৃত সামশুল আলমের ছেলে।এ ঘটনায় শনিবার রাতেই ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেছেন ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আলম। মামলার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকল আসামিরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। মামলার এজাহার ও বাদী সাঈদ আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) হলদিবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অসম্মান করে কথা বললে প্রতিবাদ জানায় সাঈদ আলম ও মুসল্লিরা। এ সময় মসজিদের ইমামের লোকজন ও যুবলীগ নেতা সাঈদ আলমের লোকজনের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে ওই দিন রাতেই ৪ জনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেন তিনি। মামলার খবর জানতে পারলে ইউপি চেয়ারম্যানসহ তাঁর লোকজন ও মামলার অন্যান্য আসামিরা গত শনিবার সকালে সাঈদ আলমের পথরোধ করে তাকে মারপিট শুরু করে। এরপরে তাকে বাঁচাতে তাঁর ছোট ভাই সাকিল আহম্মেদসহ পরিবারের লোকজন ছুটে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম ও মৎস্যজীবী লীগ নেতা সাকিল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সাঈদ আলম জানান, সাকিল আহম্মেদের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে চিকিৎসক তাঁকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়। আমি গুরুতর আহত, মাথায় ৯টি সেলাই নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে আমাদের দুই ভাইকে হত্যা করতে চেয়েছিল। একজনকে হত্যা করতে সে সফল হয়েছে। জনপ্রতিনিধির আড়ালে একজন খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। এদিকে রোববার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগ ও স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ভানোর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক (দায়িত্বে) জাহাঙ্গীর আলম মামুন বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। বিভিন্ন দল থেকে যারা আ’লীগে প্রবেশ করে তাদের দ্বারাই এসব অপকর্ম ঘটে।যে ছেলেটি মারা গেছে সে ও তার পুরো পরিবার বংশ পরম্পরায় আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।আজ বিএনপি থেকে আ’লীগে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান হয়েছেন রফিকুল ইসলাম।তার প্রত্যক্ষ মদদে এ এলাকার আ’লীগ পরিবারের একজনকে হারালাম।আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাই। বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। যার মামলা নং ৪। পুলিশ সকল আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।