ধর্ষণ মামলার আসামী স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য 

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ , ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর হাই স্কুল পরিচালনা কমিটিতে কো-আপ্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ধর্ষণ মামলার আসামী হেদায়েত উল্যাহ স্বপন। কমিটির সভাপতি শামছুল আলমের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এই ধর্ষক সদস্য হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা শামছুল আলমকে সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন করেন। এর পর নিয়মানুযায়ী গত ৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত কমিটির প্রথম সভায় একজন কো-আপ্ট সদস্য নির্বাচিত করতে হয়। কো-আপ্ট সদস্য হতে একাধিক-জন প্রার্থী থাকলেও সভাপতি শামছুল আলম ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্ষণ মামলার আসামী হেদায়েত উল্যাহ স্বপনকে সদস্য নির্বাচিত করেন। এক্ষেত্রে কমিটির অন্য সদস্যদের সভাপতি হুমকি ধমকি দিয়ে স্বপনের পক্ষে সমর্থন আদায় করেন বলে অভিযোগ করেছে কমিটির একাধিক সদস্য, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০১৬ সালের অক্টোবরে সোনাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের হারুন মিয়ার নতুন বাড়ির মৃত তোফায়েল আহাম্মদ ড্রাইভারের পুত্র হেদায়েত উল্যাহ স্বপন স্থানীয় ৭ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার নং-৫, তাং-৪-১০-২০১৬ইং। পরবর্তীতে জিআর-১৬২৫/১৬, না: ও শি: নি: ৩১৪/১৭ মতে আদালত হেদায়েত উল্যাহ স্বপনের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন এবং তাকে গ্রেফতার করার জন্য ১৬৩৭ নং স্মারকে গত ২০-৩-২০১৭ইং তারিখসহ একাধিক বার সোনাইমুড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আসামী পলাতক দেখিয়ে থানার ওসি-গন দায়িত্ব শেষ করছেন। এদিকে হেদায়েত উল্যাহ স্বপনের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনি যে জামিনে নেই তা নিশ্চিত করেছেন সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন অর রশিদ। অপরদিকে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী স্কুলের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একাধিক সচেতন মহল জানান, এটা কি ভাবে সম্ভব। যার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে সে কি ভাবে স্কুল কমিটির সদস্য হয়। এটা দেশ ও জাতীর জন্য একটা কলঙ্ক জনক অধ্যায় বলে তারা মন্তব্য করেন। এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত হেদায়েত উল্যাহ স্বপনকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। আর সভাপতি শামছুল আলমের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা হোসাইনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে ধর্ষণ মামলার আসামী কখনো সদস্য হতে পারেনা। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।