বিয়ের কথা বলে কিশোরীকে ডেকে ধর্ষণ: প্রেমিকসহ দুই জন গ্রেফতার

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ , ৯:১১ অপরাহ্ণ

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মোবাইল ফোনে প্রেমের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে পঞ্চগড়ের বোদায় এসে কথিত প্রেমিকসহ তার বন্ধুদের কাছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক কিশোরী। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে রাতে অভিযুক্ত প্রতারক প্রেমিকসহ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামীরা হলেন, বোদা উপজেলার সিপাহীপাড়া গ্রামের মহিদুলের ছেলে প্রধান আসামী প্রতারক প্রেমিক আব্দুল মালেক (২৪) ও বামনপাড়া গ্রামের শাসুদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২২)। তবে এ ঘটনায় ২নং আসামী প্রসাদখাওয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে আপন (২৫) ও ৩নং আসামী মকবুল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩০) পলাতক রয়েছে। স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯মাস আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনার গাঁও মগরাপাড়া এলাকায় ওয়াই ফাই কল সেন্টারে চাকরি করা অবস্থায় মোবাইল ফোনে ওই কিশোরীর পরিচয় হয় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রতারক প্রেমিক আব্দুল মালেকের সাথে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এর মাঝে মালেক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পঞ্চগড়ে আসতে বলেন। এর মাঝে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়নগঞ্জ থেকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আসে। এ সময় প্রেমিক মালেক আসামী আলমগীরের ইজিবাইক করে প্রসাদ খাওয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার (৬৫) নামে এক নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় প্রতারক প্রেমিকের বন্ধুরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি সন্দেহ হয়। সে নারায়নগঞ্জ ফিরে যাবে বলে বের হয়ে যায়। এর মাঝে প্রেমিক মালেক আপন ও আশরাফুলকে কাজীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি আম বাগানে গেলে প্রেমিকসহ অপর ৩জন কিশোরীর হাত-মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এক সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন লোক এগিয়ে আসলে প্রেমিকসহ ধর্ষকেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোদা থানা পুলিশকে অবহিত করে। রাতেই এজাহার দায়ের করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী কিশোরী। সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায়। তিনি বলেন, ঘটনার দিনেই থানায় অভিযোগ পেয়ে প্রধান আসামী প্রেমিক আব্দুল মালেক ও আসামী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং একই ঘটনায় অপর আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।