পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ: যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ , ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়িয়ে মিথ্যা বিয়ের কথা বলে এক তরুণীকে (২০) একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। একই সাথে ধর্ষণের পর কৌশলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্ত পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মিন্টু। এদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে মিন্টুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম তিস্তাপাড়া গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মনোয়ার হোসেন মিন্টুকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন যুবলীগের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ মিঠু। এর আগে শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় পঞ্চগড়ের বোদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী তরুণী।
মামলার এজাহারে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় দুজনের বাড়ি হওয়ায় মনোয়ার হোসেন মিন্টুর সাথে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। এরপর আলাপচারীতার এক পর্যায়ে মিন্টু নিজেকে অবিবাহিত বলে প্রেমের প্রস্তাব দেন ভুক্তভোগীকে। প্রথমে তরুণী রাজি না থাকলেও এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর বিভিন্ন সময় মিন্টু তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল বাড়ির অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতে মিন্টু ভুক্তভোগীর বাসায় দেখা করতে যায়। এরপর তরুণীর অনিচ্ছা স্বত্বেও মিন্টু তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে। সেই দিনের পর ভুক্তভোগী তরুণী অভিযুক্ত মিন্টুকে একাধিক বার বিয়ের জন্য চাপ দিলে মিন্টু তার সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেয়। এরমাঝে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় চলে যায় ভিকটিম। চলতি বছরের গত ২৫ জুন মিন্টু পুনরায় ঢাকা গিয়ে বিয়ের জন্য কাজী অফিসে নেয়ার কথা বলে তরুণীকে ডেকে নেয়। ফোন পেয়ে তার সাথে দেখা করতে গিয়ে অপরিচিত একটি বাসায় নিয়ে যায় মিন্টু। সেখানেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পুনরায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর পুনরায় ভুক্তভোগী তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে গোপন ভিডিওর কথা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পুনরায় যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মিন্টু। পরে কোন বিষয় বুঝতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করে বোদা থানায় অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী তরুণী। এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মিন্টু বলেন, ওই তরুণীকে হলফ-নামার মাধ্যমে এফিডেভিটে গত ৩০ জুলাই বিয়ে করেছেন এবং তারা বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী। যুবলীগের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ মিঠু জানান, চিলাহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এতে করে সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। কি কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে এবং কেন তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার জবাব চেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নোটিশ দেয়া হয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে উপজেলা যুবলীগ কার্যালয়ে দাখিল করার নির্দেশ দিয়ে সাময়িক ভাবে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে দুই দিন অতিবাহিত হয়েছে। বুধবার আরও একদিন সময় রয়েছে তার জবাব দেয়ার। এর মধ্যে এখনো কোন জবাব দাখিল হয়নি। বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে সকল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।