কমলগঞ্জে শিশু হত্যার ৭ মাস পরেও কেউ গ্রেফতার হয়নি

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ , ৮:৩২ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস অতিবাহিত হলেও কমলগঞ্জে মৌ হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। আলোচিত ৬ বছরের শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি আদালতের নির্দেশে মৌলভীবাজার পিবিআই তদন্ত করলেও কোন ক্লু উদঘাটন অথবা জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিহত শিশুটির মা রুবি আক্তার ও বাবা ফরিদ মিয়াসহ পরিবারের লোকজন এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের খোঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবী করেন। সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের খেছুলুটি গ্রামের ফরিদ মিয়ার ৬ বছরের শিশু ফাতেমা জান্নাত মৌ (৬) এর গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ ঘরের পেছনে একটি নর্দমা-যুক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করে শমশেরনগর ফাঁড়ি পুলিশ। এ সময় তার গলাকাটা, খাদ্যনালী বের হওয়া ও ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ফাতেমা জান্নাত মৌ সবার ছোট। সে কেছুলুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত কেছুলুটি বায়তুস সুন্নাহ জামে মসজিদ কেন্দ্রের কোরআন শিক্ষা স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। ঐদিন রাতে নিহত শিশুর মা রুবি আক্তার বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি আদালতের নির্দেশে মৌলভীবাজার পিবিআই তদন্ত শুরু করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মা রুবি আক্তার বাবা ফরিদ মিয়া জানান, গত কয়েক বছরে একই গ্রামের আবেদুর রহমান আবেদসহ একাধিক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। ঘটনার দিন শিশুটি যেই জায়গায় খেলতে গিয়ে ছিলো সেই স্থানে অবৈধ কোন কিছু দেখে ফেলেছে। এই জন্যই তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তাদের নাম দিয়েছি। তাদেরকে নিরপেক্ষ ভাবে জিঙ্গাসাবাদ করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। তিনি আরও জানান, গ্রামের আবেদুর রহমান আবেদ এর হুমকি‘র ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি ( নং-৬৬৭/২২, তারিখ: ১৪/০৭/২২) করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপত্তা-হীন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কারী সাব-ইন্সপেক্টর(নি:) শাহ মোকাদ্দির হোসেন বলেন, ঘটনার ক্লু-উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। বাদীর দেওয়া তথ্য যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।