ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর বেদখলি জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মোতওয়াল্লী

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৫, ২০২২ , ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর জমি উদ্ধারে এক মোতওয়াল্লী আদালতে ২৫ বছর ধরে মামলা চালাতে চালাতে অবশেষে বয়সের ভারে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ এই ২৬ বছর ধরে চলে আপিল, লিভ টু আপিল, রিট পিটিশন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ নোটিশ, মোতওয়াল্লী নিয়োগ দেশের কার্যক্রম স্থগিত-বৃদ্ধিসহ নানা চড়াই-উৎরাই। তবুও অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ওয়াক্‌ফ স্টেটের ০.২৩ একর জমি। ইতিমধ্যে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয় মোতওয়াল্লী। এবার নতুন মোতওয়াল্লীও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জমি উদ্ধারে তৎপর হয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও প্রশাসনের ধীর গতির কারণে এখন পর্যন্ত এস্টেট এর বেহাত হওয়া জমি দখলে নিতে পারেননি নতুন মোতওয়াল্লী। জমি উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার। জানা যায়, হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর মোতওয়াল্লী মরহুম হাজী রহিমউদ্দিন ১৯৯৬ সালে এস.এ খতিয়ান নং-৩২১ এর ২৬৫, ২৬৬ ও ২৬৭ তিনটি দাগে মোট ০.২৩ একর জমি বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন, যার নং ০১/৯৬। সেই মামলার ৩ আগস্ট ১৯৯৭ সালের রায়ের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগে এফ আর নং ২৭৯/১৯৯৭ আপিল মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর পক্ষে রায় দেন এবং উক্ত জমি হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াক্‌ফ এস্টেটকে বুঝিতে দেওয়ার জন্য ওয়াকফ প্রশাসককে নির্দেশ দেন। উক্ত রায়ের প্রেক্ষিতে ডাঃ মোঃ হামিদুর রহমান গং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নং ৭৯০/২০১০ দায়ের করেন। লিভ টু আপিলেও গত ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবরে ওয়াক্‌ফ এস্টেটের পক্ষে রায় দেয় আদালত। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে তৎকালীন বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসক মো: শহীদুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব) ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর মোতওয়াল্লীকে বুঝিয়ে দিতে একটি আদেশ দিলেও এখন পর্যন্ত সেই আদেশ আলোর মুখ দেখতে পায়নি। হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর অবৈধ দখলদাররা হলেন-উপজেলার নেকমরদ ভবানন্দপুর এলাকার মৃত-ফজলে করিম এর ছেলে মো: হামিদুর রহমান ও একই এলাকার মৃত-তসলিম উদ্দিন এর ছেলে মো: আব্দুর রহমান। এ ব্যাপারে হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াকফ স্টেট এর নতুন মোতওয়াল্লী মো: ইউসুফ আলী জানান, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াকফ এস্টেট এর অবৈধ দখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে একজন মোতওয়াল্লী ইতিমধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। পরবর্তীতে এস্টেট এর ওয়ারিশগণ আমাকে মোতওয়াল্লী হওয়ার জন্য মতামত দিলে বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসক আমাকে উক্ত এস্টেটের মোতওয়াল্লী নিয়োগ দিয়েছেন। আমি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমার বিশ্বাস প্রশাসন একটু শক্ত হাতে বিষয়টি দেখলেই আমরা আমাদের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে সক্ষম হবো। এ বিষয়ে জানতে রাণীশংকৈল উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উক্ত জমি উদ্ধারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। গত ৬ জুন উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। কিন্তু ডাঃ হামিদুর রহমান গং ১৫ দিন সময় নেওয়ার আবেদন করেন তাই উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামকৃষ্ণ বর্মন বলেন, নেকমরদের হাজী ঢাকনা মোহাম্মদ গং ওয়াক্‌ফ এস্টেট এর বেদখলি জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাণীশংকৈল উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক তিনি অবৈধ দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অবৈধ দখলে থাকা ব্যক্তি ডা. মো: হামিদুর রহমান তার স্থাপনা সরিয়ে নিতে ১৫ দিনের সময় নিয়েছিলেন। যদিও ইতিমধ্যে সময় পেরিয়ে গেছে, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।