ময়মনসিংহে তাসলিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন: ২জন গ্রেফতার

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৮, ২০২২ , ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহ ব্যুরো, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া-রহমতপুর বাইপাস রোডের বাদেকল্পা এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে আঙুলের ছাপ থেকে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এ হত্যায় জড়িত নিহতের ঘাতক স্বামী মেহেদি হাসান (২২) ও লাশ বস্তায় ভরে নিজের প্রাইভেটকার দিয়ে ময়মনসিংহে ফেলে যাওয়ায় ভাড়া বাসার মালিক (বাড়িওয়ালা) স্বপন বেপারী (৩৮)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মেহেদী জেলার ফুলপুর উপজেলার গোয়াডাঙা গ্রামের ছোহরাব আলীর ছেলে। আর স্বপন বেপারী গাজীপুরের গাছা থানার দুলাল মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। আর নিহতের নাম তাসলিমা আক্তার (৩২)। নিহত এই নারী জেলার নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ওই দিন রাতেই নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। রোববার (১৬ অক্টোবর) গাজীপুরে অভিযানে চালিয়ে নিহতের স্বামী ও বাসার মালিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুল ইসলাম ফকির। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নগরীর আকুয়া-রহমতপুর বাইপাস সড়কের বাদেকল্পা এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় নিহতের নাম তাসলিমা। তিনি নান্দাইলের চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বাশাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মামলা দায়ের করলে তদন্ত ও অভিযানে নামে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এই পুলিশ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম ফকির আরো জানান, অভিযুক্ত মেহেদী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানায়, বছর খানেক আগে মেহেদীর সঙ্গে বিয়ে হয় তাসলিমার। এটি তাসলিমার তৃতীয় বিয়ে ছিলো। মেহেদী একটি কোম্পানির হয়ে চট্রগ্রাম কাজ করতেন। তাসলিমা গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। গাজীপুর এলাকায় থাকার সময় বিয়ে হলেও বিয়ের পর মেহেদী তাসলিমাকে নিয়ে চট্রগ্রাম চলে যান। নিজের চাকরি চলে যাওয়ায় গত ১১ অক্টোবর তাসলিমাকে নিয়ে গাজীপুরের গাছা এলাকায় স্বপনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। গাজীপুরে বাসায় ওঠার পরদিন বুধবার তাসলিমাকে হত্যার পর পালিয়ে যায় মেহেদী। নিজের থেকে স্ত্রীর বয়স বেশি, স্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া ও তৃতীয় স্বামী হয়ে থাকতে ভালো না লাগায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পালায় মেহেদী। পরে বৃহস্পতিবার বাসার মালিক স্বপন নতুন ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেন মেহেদী নেই, পড়ে আছে তাসলিমার মরদেহ। ওই অবস্থায় স্বপন কাউকে কিছু না জানিয়ে লাশটি বস্তায় ভরে নিজের প্রাইভেটকার দিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া-রহমতপুর বাইপাস রোডের পাশে ফেলে যান।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, নিজের থেকে বয়স বেশি, তৃতীয় স্বামী হয়ে থাকতে ভালো না লাগাসহ পারিবারিক অশান্তির কারণে স্ত্রীকে হত্যা করে মেহেদী। পরে সেই লাশ গুম করেন বাসার মালিক স্বপন। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনকে সোমবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।