এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের প্রতারণায় মৌলভীবাজারে রোগীর মৃত্যু

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৬, ২০২২ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের প্রতারণা ও অবহেলায় কামাল উদ্দিন আহমদ নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদ করলে উল্টো ছেলে মোঃ শিপু মিয়াকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত আহত করার অভিযোগ উঠেছে এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার খালেদ মিয়া, সাদিক মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী মোঃ শিপু মিয়া বাদী হয়ে এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার খালেদ মিয়া, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সাদিক মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ঘটনার দিন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সূত্রে জানা গেছে সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে কামাল উদ্দিন হঠাৎ শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে অসুস্থতা-বোধ করায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার ছেলেরা শিপু, শাহজাহান ও রাজিব। কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অক্সিজেন সহকারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তখন এক পর্যায়ে সাদিক মিয়ার এ্যাম্বুলেন্স ঠিক করা হয়। সাদিক মিয়ার এ্যাম্বুলেন্সে রোগী তুলার পূর্বে এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে ড্রাইভার সাদিক অক্সিজেন আছে মর্মে জানান। এ্যাম্বুলেন্সে রোগী তোলার পর শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দিলে এ সময় রোগীকে অক্সিজেন লাগানোর জন্য বলা হয়। সাদিক জানায় তার এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন নেই। পরে অক্সিজেনের অভাবেই গাড়ির ভিতরেই কামাল উদ্দিন মারা যান। এ নিয়ে মৃত ব্যক্তির ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাদিক মিয়া ও খালেদ মিয়াসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন মিলে মৃত কামাল আহমদ এর ছেলেদের বেধড়ক পেটায় এবং রক্তাক্ত জখম করে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীরা মৃত বাবার পাশ থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করান। এ ঘটনার পর সাধারণ রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। হাসপাতালের সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকবৃন্দ।